আজকাল যে সংবাদটা খুব প্রকটভাবে আমাদের চোখে পড়ে, সেটি হলো ‘নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি’। বিশেষ করে ছোট শিশু হারানো যেন এখন সহজ হয়ে গেছে এদেশে। তাই অভিভাবকদের জেনে রাখা ভালো, সন্তান হারিয়ে গেল প্রথম ১ ঘণ্টায় কী করা জরুরি?
বাচ্চা হারিয়ে যাওয়ার প্রথম ১ ঘণ্টাকে বলা হয় গোল্ডেন আওয়ার। এসময় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সন্তান সুস্থভাবে ফিরে পেতে অনেকটা ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আমরা ভাবি, বাচ্চা হয়ত আশেপাশেই কোথাও আছে, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি, ফিরে আসবে, কিন্তু এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
-আশেপাশে খোঁজ নিন। আশেপাশের সবাইকে বাচ্চার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। এক ঘণ্টার মধ্যেই জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করুন, প্রকৃত তথ্য পাবেন।
-খোঁজার সময় উচ্চস্বরে নাম ধরে ডাকুন। তাহলে সে বিপাকে থাকলে বুঝতে পারবে, আপনারা আশপাশেই তাকে খুঁজছেন। সেক্ষেত্রে শিশুটি চেষ্টা করবে ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য।
-প্রথমেই জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিন। পুলিশকে আপনার সন্তানের সম্পর্কে পর্যাপ্ত এবং সঠিক তথ্য দিন। খেয়াল রাখবেন, তথ্যগুলো যেন নির্ভুল হয়। আপনার দেওয়া সামান্য ভুল তথ্যও পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
-বাচ্চা যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছে, সেই এলাকা এবং তার আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখুন।
-যদি মেলা কিংবা বেশি জনসমাগম কোনো এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে মাইকে ঘোষণা দিন।
-অবশ্যই এবং অতি দ্রুত থানায় জিডি করুন।
-শিশুর ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন। এর মাধ্যমে অনেক সময়ই শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
-সম্প্রতি দেশে ‘মুন এলার্ট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ বাচ্চার ছবি এবং তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে রাখুন।
যেহেতু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম, তাই অভিভাবকদের উচিত আগে থেকে সতর্ক থাকা এবং কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস বাচ্চাদের শেখানো। যেমন :
- পিতামাতা কিংবা অভিভাবকের নাম্বার মুখস্থ রাখা। যেন তারা হারিয়ে গেলে কিংবা পথ হারিয়ে ফেললে কারো মোবাইল থেকে কল দিয়ে বাবা-মাকে জানাতে এবং উদ্ধার হতে পারে।
-বাচ্চা যদি বেশি ছোট হয় তাহলে একটি কাগজে তার নাম, বাড়ির ঠিকানা ও অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার লিখে বাচ্চার সঙ্গে রেখে দিবেন।
-শিশুকে ছোটবেলা থেকেই সতর্ক করুন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে না যেতে, অপরিচিত মানুষের দেওয়া কিছু না খেতে, চকলেট/আইসক্রিম/খেলনা কিংবা প্রিয় কোনো জিনিসের লোভ দেখালে আগে বাবা-মাকে জানাতে।
-কেউ যদি আপনার বাচ্চাকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে সে যেন কৌশলে আশেপাশের মানুষের থেকে সাহায্য চায়, এই বিষয়েও আগে থেকে তাকে জানিয়ে রাখুন।
উল্লেখ্য, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে তারা। একই সময়ে নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
সময়ের আলো/মহু