ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা কমবেশি সবারই জানা। দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে শুধু নিয়মিত ধূমপানই নয়, ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত সিগারেট ধরানোর অভ্যাসও স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে যারা সিগারেট পান করেন, তাদের মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
আমেরিকার পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োবিহেভিয়োরাল হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্টিভেন ব্র্যানস্টেটারের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই যারা ধূমপান করেন, তাদের রক্তে এনএনএএল নামের রাসায়নিকের মাত্রা বেশি থাকতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তামাক সেবনের কারণে বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ধূমপানে যেসব ক্ষতি হতে পারে
ফুসফুসের ক্ষতি
ধূমপান ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে সিওপিডি, ব্রংকাইটিস এবং ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
সিগারেটের বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক রক্তনালির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার
ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় না; মুখগহ্বর, গলা, অগ্ন্যাশয়, মূত্রাশয়সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়াতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া
দীর্ঘদিন ধূমপান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। ফলে, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সকালে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস কেন উদ্বেগের?
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম নেয় এবং স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো চলতে থাকে। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খেলে নিকোটিনসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে, যা খুব ক্ষতিকর।
ধূমপানের ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, পুরোপুরি ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। তবে, দীর্ঘদিনের অভ্যাস হওয়ায় অনেকের জন্য হঠাৎ ধূমপান বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কাউন্সেলিং এবং নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সময়ের আলো/মহু