ফ্যাটি লিভার এমন একটি সমস্যা, যা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে বিষয়টি সহজেই নজরের বাইরে থেকে যেতে পারে।
তবে লিভারের ক্ষতি বাড়তে থাকলে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এসব সতর্ক সংকেত সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গেলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা
সব সময় ক্লান্ত বা দুর্বল লাগাকে অনেকেই সাধারণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যান। অথচ এটি ফ্যাটি লিভারের একটি কম পরিচিত লক্ষণ হতে পারে। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্লান্তি মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজের (এমএএসএলডি) একটি সতর্ক সংকেত।
লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও অবসাদ বা দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজও আগের তুলনায় বেশি পরিশ্রমের মনে হতে পারে।
তবে শুধু ক্লান্তি থাকলেই ফ্যাটি লিভার হয়েছে এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ঘুমের ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ বা পুষ্টির ঘাটতিসহ নানা কারণেও ক্লান্তি হতে পারে।
পেটের ডান দিকে ওপরের অংশে ব্যথা
লিভারের অবস্থান পাঁজরের নিচে পেটের ওপরের ডান দিকে। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত কিছু মানুষের এই অংশে চাপ, অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা হতে পারে। লিভার বড় হয়ে যাওয়া বা প্রদাহের কারণে এমনটা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে এ ধরনের অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে পেটের এই অংশে ব্যথার পেছনে পিত্তথলি বা হজমের সমস্যাসহ অন্য কারণও থাকতে পারে।
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের লক্ষণ। লিভার যখন স্বাভাবিকভাবে বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন এমনটি হতে পারে।
সাধারণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জন্ডিস খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তবে এটি লিভারের গুরুতর ক্ষতি বা অন্য কোনো লিভার-সম্পর্কিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাবের রং গাঢ় কিংবা মল ফ্যাকাশে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পা, গোড়ালি বা পেটে ফোলা
লিভারের গুরুতর ক্ষতি হলে শরীরে তরল ও প্রোটিনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে পা ও গোড়ালির চারপাশে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
কখনো পেটের ভেতরেও অতিরিক্ত তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। এই অবস্থাকে অ্যাসাইটিস বলা হয়।
তবে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা বা অন্য শারীরিক অসুস্থতার কারণেও হতে পারে। তাই লিভারের রোগ থাকলে নতুন করে ফোলাভাব দেখা দিলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। হঠাৎ পেট ফুলে গেলে সেটিকে শুধু ওজন বেড়ে যাওয়া হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
সহজেই কালশিটে পড়া বা অস্বাভাবিক রক্তপাত
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিন তৈরিতে লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লিভার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব প্রোটিন তৈরির ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে শরীরে সহজেই কালশিটে পড়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় রক্তপাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কারণ ছাড়াই ঘন ঘন কালশিটে পড়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ফ্যাটি লিভার গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। শরীরে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সময়ের আলো/জেডি