জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে খেলাফত মজলিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যদের বৈঠকে শনিবার (২৫ জুলাই) জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোকে ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর এই জোটে ভাঙনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নেয়নি খেলাফত মজলিস। শনিবার সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশেও দলটির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না। সমাবেশের ব্যানারেও দলের কোনো নেতার নাম রাখা হয়নি। একই দিনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যদের বৈঠক, যেখানে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা-না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, শুক্রবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা-না থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত শনিবার শুরা সদস্যদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। পরে শুরা সদস্যরাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
এর আগে কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নেয় হেফাজতে ইসলাম। এ লক্ষ্যে সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে বিভাগীয় সমাবেশের ব্যানারে দল কিংবা দলের নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে। এরপরও রংপুরের বিভাগীয় সমাবেশের ব্যানারে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হলে দলটির আপত্তির পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আর কোনো সমাবেশেই দলটির নাম বা নেতাদের নাম ব্যবহার করা হয়নি।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের কোনো জোট হয়নি, নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছিল। নির্বাচন যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সেই সমঝোতার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করছি না। ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার প্রয়োজন হলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলের নেতাদের জানানো হয়েছে ২৫ জুলাই পর্যন্ত কোনো ব্যানারে যেন আমাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। ওই দিন শুরার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় সমাবেশে খেলাফত মজলিসের অনুপস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শনিবার খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতাদের জরুরি বৈঠক থাকায় তারা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তারা প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় ঐক্যে থাকছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দলটি আমাদের সঙ্গেই আছে।
সময়ের আলো/আরবিএন