ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আসামের ডিব্রুগড়ে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই। নিট প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হলো, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আন্দোলন করছি। আজ যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতের কথা কে ভাববে? ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের পর বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ৪৭ কর্মকর্তার চাকরি বাতিল করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আট দিন পর আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ছয় শিক্ষার্থী নেতা।
পরবর্তীতে অনশনে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও গতি পায়। ১৮ জুলাই তাকে সাফদারজং হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং দেশজুড়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
সময়ের আলো/কেএইচ