নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরালো করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘অপরাধী শিক্ষামন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। এ সময় তার পাশে ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাহিল, যিনি দাবি করেছেন, ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের ছোড়া পেলেট তার ডান চোখে লাগে।
রাহুল বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান একজন অপরাধী শিক্ষামন্ত্রী। তাকে অপসারণ করতেই হবে। তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পতনের প্রতীক।
সাহিলের চোখের আঘাত দেখিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার দাবি করছে যে বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু এই শিক্ষার্থীর চোখের অবস্থা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, এই তরুণরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। অথচ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করায় হাজারো শিক্ষার্থীর ওপর পেলেট গান ব্যবহার, লাঠিচার্জ ও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু পরে জানতে পারে প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, যাদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ লাখ রুপি ছিল, তারা প্রশ্নপত্র কিনতে পেরেছে, আর বাকিদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান ও লাঠিচার্জের অভিযোগে অভিযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল জানান, সাহিল পরিবারের সহায়তায় খণ্ডকালীন কাজ করেন। তিনি একটি পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা।
সময়ের আলো/কেএইচ