লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের অলিগলিতে এখন এক ভিন্ন ও আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে। শিশুদের হাতে চিপস বা চকলেটের পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে স্ক্র্যাচ কার্ড। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে কেনা এই লটারি বা স্ক্র্যাচ কার্ডের কালো দাগ ঘষলেই মিলছে লাটিম, খেলনা গাড়ি, ছোট বলসহ নানা উপহার।
আকর্ষণীয় এসব উপহারের লোভে পড়ে শিশুদের এই ঝোঁক প্রকৃতপক্ষে তাদের চরম সর্বনাশের দিকে ডেকে আনছে। লটারির নামে দুই উপজেলার বাজার ও ফুটপাতে ছড়িয়ে পড়া এই চক্রান্তকে ‘শিশু জুয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলার রামগতি ও কমলনগরের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে এখন রমরমাভাবে চলছে এই লটারি বাণিজ্য। বিশেষ করে চরাঞ্চলের গ্রামগঞ্জে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের লক্ষ্য করে এই ফাঁদ পাতা হয়েছে। সচেতন ব্যক্তিদের মতে, লটারির ছদ্মবেশে এই জুয়া খেলা শিশুদের মনে শৈশব থেকেই লোভের জন্ম দিচ্ছে এবং তাদের জুয়ার মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে আসক্ত করে তুলছে।
চর কাদিরা ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটা কোনো লটারি নয়, এক ধরনের স্পষ্ট জুয়া খেলা। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। লোভের বশে শিশুকাল থেকেই তাদের জুয়া খেলার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সন্তানদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। স্থানীয় অভিভাবক অভি চন্দ্র দাস বলেন, আমি ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন সে লটারি খেলার জন্য কান্নাকাটি করে। ৫ বা ১০ টাকা না দিলে সে স্কুলেই যেতে চায় না।
আরেক অভিভাবক মো. স্বপন সতর্ক করে বলেন, আজকের এই ছোট জুয়া কাল বড় অপরাধের জন্ম দেবে। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের এই বিষাক্ত থাবা থেকে রক্ষা করতে চাই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কমলনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, কোন কোন এলাকায় বা কোন দোকানে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। তথ্য পাওয়া মাত্রই পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই