লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন ও জোয়ারের পানির তাণ্ডব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একের পর এক বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শত বছরের ঐতিহ্য। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং চলমান মেগা প্রকল্পের কাজে চরম ধীরগতির কারণে নদীপাড়ের লাখো মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার তীর সংরক্ষণে সরকারের মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এমনকি কাজের গুণগত মান নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, অনেক ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে কমলনগরের পাটারীরহাট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন কোম্পানির ৩০০ মিটার এলাকার কাজ এখনও শুরুই হয়নি। ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমে ঠিকাদারদের অনুপস্থিতি ও অবহেলার কারণে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে রামগতি ডব্লিউ-১১ ব্লকে নিম্নমানের বালি ও বড় পাথর দিয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে কোটি কোটি টাকার এই বাঁধ টেকসই না হয়ে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কমলনগরের মতিরহাট, লরেন্স, ফলকন ও পাটারীরহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, পাউবোর দুর্বল তদারকি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই প্রকল্পের কাজে এই নয়ছয় অবস্থা তৈরি হয়েছে। জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, মেঘনার তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। চলমান প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে আগামীতে লোকালয়ে আর পানি ঢোকার সম্ভাবনা থাকবে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কবরস্থান এবং স্থানীয়দের একমাত্র কাঠের সেতুটি। সরকারি বা পাউবোর কোনো সহায়তা না পেয়ে এই ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা দুটি রক্ষায় নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে মাঠে নেমেছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাঁশ, চাটাই ও বালুর বস্তা ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া রঘুনাথপুর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লোনা পানি ঢুকছে। চর আলগী ও চর বাদাম ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও কালভার্ট ভেঙে ইতিমধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভুক্তভোগী মফিজ উল্লাহ বলেন, প্রতি বছরই জোয়ারের পানিতে আমাদের ডুবতে হয়। এবার জোয়ারের টান অনেক বেশি। ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। কমলনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, পাটারীরহাট রাস্তার মাথায় ওয়েস্টার্ন কোম্পানি ৩০০ মিটার কাজ না করায় তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে উপজেলা মাসিক সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি