কটিয়াদীতে ৫ সন্তান বিক্রি, নেপথ্যে কী

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিজ সন্তানদের বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মাদকের ভয়াল ছোবাল ও

2026-09-11T20:55:12+00:00
2026-09-11T20:55:12+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
কটিয়াদীতে ৫ সন্তান বিক্রি, নেপথ্যে কী
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম 
কটিয়াদী থানা। ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিজ সন্তানদের বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মাদকের ভয়াল ছোবাল ও অভিভাবকের দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই ধরনের হীন কাজ করে আসছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আর এ ধরনের ঘটনায় সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও উক্ত গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি শিশু সন্তান যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকায়, আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ৭৭ হাজার টাকায় এবং মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার সন্তান ২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

আর গত ২ সেপ্টেম্বর মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের স্ত্রী ফারজানা তার একদিনের ছেলে সন্তানকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

সম্প্রতি, গ্রামের বাসিন্দা জাকির মিয়া তার স্ত্রী ফারজানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সন্তান বিক্রির অভিযোগ এনে কটিয়াদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।


এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে জাকির মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাতে আমার স্ত্রী আমাকে না জানিয়ে একদিনের নবজাতক সন্তানকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে। বাবা হয়ে আমি আমার সন্তানের মুখও দেখতে পারেনি। ঘটনার পর থেকেই আমার স্ত্রী উপজেলার জালালপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে আছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জাকির হোসেন স্ত্রী ফারজানার কাছে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে অভিহিত করে বলেন, আমার স্বামী মাদকাসক্ত। আমাদের আরও দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এবার আমি গর্ভবতী হলে আমার স্বামী জাকির সন্তান বিক্রি করার জন্য পাগল হয়ে লোক খুঁজতে থাকেন। তারপর প্রতিবেশী মঙ্গলা বেগম একজন ক্রেতার খোঁজ এনে দেন। তার সহযোগিতায় জাকির সন্তান বিক্রি করেছে। আমি তখন অজ্ঞান অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি। এখন এ ঘটনায় আমাকে, আমার মাকে ও প্রতিবেশী মঙ্গলাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে জাকিরের প্রতিবেশী মঙ্গলার বাড়িতে গেলে জানা যায়, তিনি একজন ভিক্ষুক। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই।

স্থানীয় বাসিন্দার বকুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া ও দুলাল মিয়া জানান, গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। মাদক সেবনের জন্য টাকা জোগাড় করতে নিজেদের সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

কটিয়াদী থানা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই এমন অভিযোগ উঠলেও মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, সন্তানদের প্রথমে যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, পরবর্তীকালে তাদের কেউ কেউ আবার অন্য জায়গায় বেশি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে শিশুদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গেলে, সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে অন্যত্র চলে যান সন্তান বিক্রির অভিযোগ ওঠা পরিবারের সদস্যরা। 

কটিয়াদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জাকিরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, দারিদ্র্যতার কারণে অভিভাবকরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের সন্তানদের টাকার বিনিময়ে দত্তক দিয়েছে। মাদক নির্মূলে আইনগত এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   কটিয়াদী  সন্তান বিক্রি  কিশোরগঞ্জ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: