অনলাইন জুয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়েছিল ২৯ বছর বয়সী মো. আরিফুর রহমানের। সেই ঋণ শোধ করতে পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন তিনি। এজন্য নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে ভাইকে ফোন করে জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে।
আরিফুর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ফুটপাতে তার একটি দোকান রয়েছে এবং সেখানেই থাকতেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আরিফুর এক বন্ধুকে দোকানে রেখে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করতে বের হন। এরপর আর দোকানে ফেরেননি এবং মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। পরদিন সকালে তার নম্বর থেকেই ভাইয়ের ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানানো হয়। তাকে জীবিত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার পর আরিফুরের বন্ধু আসাফ-উদ-দৌলা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় অপহরণের মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে র্যাব তার অবস্থান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফুরকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন আরিফুর। জুয়া খেলতে গিয়ে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে আত্মগোপনে যান তিনি।
বলেন, আরিফুরকে উদ্ধারের পর সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঋণের টাকা শোধ করতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, উদ্ধার করা আরিফুরকে ভাটারা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সময়ের আলো/এমকে