উদীয়মান ও আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’ এবং এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’র (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ প্রতিশ্রুতি দেন। শনিবার (২৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, সাইবার আক্রমণ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন ঘটে এমন যেকোনো সংকট মোকাবিলায় এখন বস্তুনিষ্ঠ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
এ সময় তিনি প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ দমনে জোর দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ঠেকানোর বাস্তবভিত্তিক উপায়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে যেকোনা চ্যালেঞ্জে সম্মিলিত সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, পাঁচ দশক আগে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক টিএসি চুক্তিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অনধিকার চর্চা না করার মতো মূল নীতিসমূহ নির্ধারিত রয়েছে। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।
৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলা সফররত ড. খলিলুর রহমান এই অনুষ্ঠানের ফাঁকে কূটনৈতিক পরিধি বাড়াতে চার দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
তিনি চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো কৌশলগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
সময়ের আলো/জেডি