ভারতের এনইইটি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের কাছে দাবি আদায়ে সফল হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তবে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মতে, এই সাফল্যই শেষ নয়, বরং ‘এটা কেবল শুরু’।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দীপকে বলেন, ‘এখন আমি নিশ্চিন্তে নিজের ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি। সকালে উঠে আর ভাবতে হচ্ছে না, আজ কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে।’
তিনি বলেন, টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন ছিল ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। তবে আন্দোলন শেষ হলেও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির সামনে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ বাকি।’
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন অভিজিৎ দীপকে। পরে সেটিই দ্রুত দেশের অন্যতম বড় যুব আন্দোলনে রূপ নেয়।
সংগঠনটির সমর্থকেরা নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন চালান। এনইইটি প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবি জানান তারা। অবশেষে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে সিজেপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের সঙ্গে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দেশের জন্য আপনারা যা করেছেন, আমি সত্যিই তার প্রশংসা করি।’
তিনি জানান, টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকায় এবং জ্বরে ভোগার কারণে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত সবার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারেননি।
দীপকে সমালোচকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান। তার ভাষায়, ‘সমালোচনা আমাদের আরও ভালো হতে সাহায্য করেছে। অনেক যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়েছে। সম্ভবত সে কারণেই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।’
সময়ের আলো/কেএইচ