ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ফ্রান্স। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আগুনের কারণে দুই দেশ মিলিয়ে ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে দাবানলে স্পেনে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে, আর স্পেন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত এএফপি ও এপি'র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। তবে মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো বলেন, অনিয়মিত ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এবং পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে ১৩ থেকে ১৫ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভ্যালেন্সিয়ার মানিসেস এলাকায় আগুন নেভানোর সময় একটি গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি মাসে স্পেনে দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার দুটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। আগুন পাশের কাস্তিয়া ই লেওন অঞ্চলের আরেকটি দাবানলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকা নিরাপদ রাখা। সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’
অন্যদিকে, ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলে দাবানলের কারণে ১ লাখ ৯৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি শান্তিকালীন সময়ে ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযানের একটি হতে পারে।
দাবানলের কারণে বোর্দো বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় সড়ক ও রেলপথে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
পর্যটকদের জনপ্রিয় ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ থেকেও প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণে শত শত মানুষকে নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত সেখানে ৫০টির বেশি বাড়ি আগুনে ধ্বংস হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, ‘আমাদের দেশে যে দাবানল চলছে, তা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় দিনের মতো জরুরি বৈঠক করেছেন ফরাসি মন্ত্রীরা। দাবানল নেভাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আগুন নিয়ন্ত্রণে একটি সামরিক পরিবহন বিমানও মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, দেশজুড়ে দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। এখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে চলমান দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এও। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকায় রোববারের সমাপনী পর্বের দূরত্ব ১৩৩ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৮৯ কিলোমিটার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ