ভারতে থাকা ইসরাইলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ শ্রীষ্টি খান্না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি পর্যটকদের জন্য ভারতের কিছু জনপ্রিয় এলাকায় এমন ক্যাফে রয়েছে, যেখানে শুধু ইসরাইলিদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ভারতে ইসরাইলি পর্যটকদের জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্রগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ বলা হয়। শ্রীষ্টি খান্নার দাবি, এসব এলাকার কিছু ক্যাফে, রেভ পার্টি ও অনুষ্ঠানে আগে থেকেই ভারতীয়দের প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। এখন এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু জায়গায় শুধু ভারতীয় নয়, অন্য বিদেশি পর্যটকদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। খান্না বলেন, এসব জায়গায় এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভারতীয়রা নিজেদের দেশেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
ভারতে ইসরাইলি তরুণ পর্যটকদের জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্রগুলোকে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে অভিহিত করা হয়। এর মধ্যে হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট, তোশ ও পার্বতী উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এ ছাড়া লাদাখ, গোয়া, গোকর্ণ, পুষ্কর ও দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকাতেও ইসরাইলি পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
এসব এলাকায় হিব্রু ভাষার সাইনবোর্ড, ইসরাইলি খাবার এবং ইসরাইলি পর্যটকদের উপযোগী ক্যাফে ও থাকার ব্যবস্থা দেখা যায়। ইসরাইলি তরুণদের অনেকেই সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা শেষ করার পর দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। ভারত তাদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
ইসরাইলি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হিমাচল প্রদেশের কাসোলে ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে ‘ফ্রি কাসোল’ নামে একটি ক্যাফেকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে এসেছিল।
এক ব্রিটিশ পর্যটক দাবি করেছিলেন, তার ভারতীয় সঙ্গীকে ক্যাফেতে মেন্যু দেওয়া হয়নি। তবে তাকে মেন্যু দেওয়া হয়েছিল। তখন ক্যাফে কর্তৃপক্ষ ‘মেম্বারস অনলি’ নীতির কথা জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও আলোচনা ও তদন্তের উদ্যোগ হয়েছিল।
শ্রীষ্টি খান্না এসব অভিযোগকে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখেছেন। তিনি দাবি করেন, ভারতীয়দের জন্য এক ধরনের আলাদা নিয়ম এবং ইসরাইলি পর্যটকদের জন্য আরেক ধরনের নিয়ম তৈরি হয়েছে।
একে তিনি ‘ইসরাইলি জাতিবিদ্বেষ’ বলে অভিহিত করেন। শিক্ষাবিদ শ্রীষ্টি এসব ঘটনার সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও যুক্ত করেছেন।
তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করেন। তিনি হিন্দুত্ব ও ইহুদিবাদের মধ্যেও তুলনা টানেন। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ