মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ট্রাওরে, বললেন ‘লড়াই শুরু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির মুসলিম আলেমদের উদ্দেশে ‘উগ্র ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। বিতর্কিত ধর্মীয় স্বাধীনতা

2026-07-26T11:37:20+00:00
2026-07-26T11:37:20+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ট্রাওরে, বললেন ‘লড়াই শুরু’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির মুসলিম আলেমদের উদ্দেশে ‘উগ্র ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। বিতর্কিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, ইমামদের গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে মুসলিম আলেমদের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাওরে বলেন, ‘যদি এটিই আপনাদের ইসলাম হয়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রপন্থীদের বদলাতে হবে। তারা না বদলালে লড়াই শুরু হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনো ইমাম খুতবা বা ধর্মীয় বক্তব্যে ‘উগ্রপন্থী’ মতাদর্শ প্রচার করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে ট্রাওরে দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ ইসলাম প্রচারকারী আলেমদের সরকার সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের সমালোচনা করার পর গ্রেপ্তার করা হয়। তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী উয়াগাদুগুর সবচেয়ে বড় সুন্নি মসজিদ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, কিন্দোর প্রায় ১০০ সমর্থককে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণের’ জন্য একটি সামরিক শিবিরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে বোবো-দিউলাসো শহরের আরেক প্রভাবশালী আলেম ইমাম মাহমুদ বারোকেও আটক করা হয়।

শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিমবাকটু ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে ইমাম কিন্দোর অবস্থান এখনো অজানা।

গত ২০ জুন অন্তর্বর্তী পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস করে। আইনে ধর্মের নামে শিশুদের জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, আর্থিক স্বচ্ছতার নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, আইনটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ।

টিমবাকটু ইনস্টিটিউটের মতে, এই বিরোধ কেবল একটি আইনকে ঘিরে নয়; বরং ২০২২ সালে ক্ষমতা দখলের পর ট্রাওরের সরকার ও প্রভাবশালী মুসলিম আলেমদের মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতার ভাঙনের প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একসময়কার মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিলে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে, অথচ এতে দীর্ঘদিনের জঙ্গি বিদ্রোহের সমাধানও হবে না।

এদিকে ট্রাওরে বিদেশে ইসলামি শিক্ষায় অধ্যয়নরত বুরকিনাবের শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দেশ অমান্য করলে তাদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হতে পারে।

সম্প্রতি বুরকিনা ফাসো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করেছে। দেশটিতে নবনিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। একই সময়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজার নিয়ে গঠিত অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।


সময়ের আলো/কেএইচ



  বিষয়:   সময়ের আলো  বুরকিনা ফাসো  ট্রাওরে 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: