ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রোববার (২৬ জুলাই) এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন কারাগারে থাকা আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৯৮টি মামলায় মোট ৯৯ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি মামলার বিচার চলছে। প্রতিটি মামলার বিচার চলছে। আইসিটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ঘাড়ে আঘাত পাওয়ায় চিকিৎসক আমাকে হেলমেট না পরার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে ১৫ দিনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাত্র আধাঘণ্টা দেখা করার সুযোগ পাই। মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে প্রিভিলেজড কমিউনিকেশনের জন্য অন্তত প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন, তিন ঘণ্টা করে সাক্ষাতের অনুমতি চাই।
পলকের আবেদন শুনে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এদিকে এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেনকে আদালতে হাজির না করায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করে। অপরদিকে আসামিপক্ষও শুনানি পেছানোর আবেদন করে। উভয়পক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ রবিউল আলম আগামী ১৩ আগস্ট অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে এদিন কারাগার থেকে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
সময়ের আলো/আআ