নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বিএনপি সরকারের সাফল্য চাইলেও তার ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গঠনমূলক সমালোচনা করব। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা ‘সাইফুল হক : যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। বইটির প্রকাশক কালের দাবি প্রকাশনার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের শতভাগ সাফল্য কামনা করি। এই সরকার জনগণের সরকার, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের কল্যাণে সরকারের অনেক কিছুই করার আছে। কিন্তু জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে তার দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে।
মান্না বলেন, পাঁচ মাস একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু কথায় বলে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। সরকার তার চলার পথে কোথায় কোথায় ভুল করছে বা ভুল করার পথে চলেছে- সেটা আলোচনার মাধ্যমেই দেখিয়ে দিতে হবে। আমরা সবাই মিলে এমন একটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষে মানুষে বিভেদ থাকবে না এবং মানুষ হিসেবে নিজেকে অপমানিত বোধ করব না।
জুলাই অভ্যুত্থানকে বিশ্বের ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ও বিরল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার কথা বলা হচ্ছে। ওপার থেকে ফিরে আসলেই কী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসা হবে? আমাদের মধ্যেও তো নতুন ফ্যাসিবাদের তৈরি হতে পারে। তাই লড়াইটা এমনভাবে করতে হবে যেন ওপার থেকে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে। আবার নিজেদের মধ্য থেকেও ফ্যাসিবাদ তৈরি হতে না পারে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ থেকে বিচারবিভাগকে আলাদা করে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় গণতন্ত্র সমস্যায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। সাইফুল হকের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সাইফুল হক একজন নিপাট ভালো মানুষ। নির্ভেজালভাবে সত্যের অনুসন্ধানে সংগ্রাম করে চলেছেন। কিন্তু তাঁর বলার সাহস আছে, সত্য প্রকাশের জন্য দৃঢ়তাও আছে।
অনুষ্ঠানে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতাড়িত করার আন্দোলনে কেউ আমরা আলাদা ছিলাম না। সবাই আমরা এক জায়গায় ছিলাম। যে ঐক্যটা আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল, সেটা যেন কোনোভাবেই ছুটে না যায়, নষ্ট না হয়।
প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, সাইফুল হকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রায় পাঁচ দশকের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাইফুল হককে অত্যন্ত শান্ত, সংযত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুসংগঠিত একজন মানুষ হিসেবে দেখে আসছেন।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও অগ্রদূত সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশের সম্পদের বণ্টন দরকার। একটা পরিবর্তন ও জাগরণও দরকার। সেই পরিবর্তন ডানদিকে হবে না, বাম দিকেই আসতে পারে। কেবল মাত্র বামপন্থা দিয়েই দেশে জাগরণ আসতে পারে।
অনুভূতি প্রকাশ করে সাইফুল হক বলেন, আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার, উপলব্ধি ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে সেই সম্মিলিত অঙ্গিকারগুলো পূরণ করবে বলে প্রত্যাশা করি। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা নয়; সততা, দেশপ্রেম ও অল্প একটু হলেও মেরুদণ্ড আছে- এমন রাজনীতির মানুষকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, পদাতিক নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক দিপু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, কালের দাবির সম্পাদক বহ্নিশিখা জামালী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান ও কালের দাবির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দিপংকর চন্দ্র কর।
পরে অনুষ্ঠানের অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সাইফুল হক : যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এরপর সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সময়ের আলো/আআ