বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায়। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। দমকা হাওয়ায় উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দমকা হাওয়ার কারণে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সোহাগ বিশ্বাস বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ।’
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একইসঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউনিয়ন প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং নদী ও সাগরে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
সময়ের আলো/মহু