ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করা হবে কি না, বুধবার সেই সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আদেশের এই দিন ঠিক করে দেয়। বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন হাই কোর্টের রায় স্থগিতের জন্য গত ১২ জুলাই আপিল বিভাগে এই আবেদন করেন। পরদিন ১৩ জুলাই আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে।
সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রাখে। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার এ বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত পুনরায় বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে বুধবার নতুন করে আদেশের দিন ধার্য করে।
অবশ্য জামায়াতের প্রার্থী আবেদন করার আগেই গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেন বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।
মঙ্গলবার আদালতে মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অন্যদিকে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
শুনানি শেষে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আমরা আদালতে মূলত হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা এবং সরোয়ার আলমগীর যাতে জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ চেয়েছি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল মঞ্জুর করলে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন সরোয়ার। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে নির্দেশ দেয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর অংশ নিতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল আমীন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখায় সরোয়ারের শপথ আটকে থাকে।
এরপর ফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সরোয়ার। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই হাই কোর্ট রায় দেয়। রায়ে সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার দিন নুরুল আমীনের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছিলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে তারা আপিল করবেন।
তবে ওইদিনই সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয় এবং সন্ধ্যায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের আগে গেজেট প্রকাশ ও শপথ আয়োজনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনকে উকিল নোটিশ পাঠান শিশির মনির।
তিনি বলেছিলেন, হাই কোর্টের রায়ের কোনো কপি বের হয়নি, রায় লেখা হয়নি এবং সইও হয়নি। কোর্টের কোনো কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়নি। হঠাৎ করে শুনলাম নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং সরোয়ারের সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ১২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে নতুন করে এই আবেদন করেন মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ