সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ চলছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে গেজেট প্রকাশের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর কার্যকর তারিখ ২০২৬ সালের ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও কার্যকরের তারিখ পরিবর্তনের কথা নয়। তবে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
সময়ের আলো/জেকিউএফ