বেবি পাউডারে ক্যানসার বিতর্ক এড়াতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে চায় জনসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বহুজাতিক আমেরিকান কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ও ট্যাল্কযুক্ত অন্যান্য পণ্য ব্যবহারে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলা

2026-07-28T14:50:00+00:00
2026-07-28T14:58:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বেবি পাউডারে ক্যানসার বিতর্ক এড়াতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে চায় জনসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ পিএম  আপডেট: ২৮.০৭.২০২৬ ২:৫৮ পিএম
বহুজাতিক আমেরিকান কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার। সংগৃহীত ছবি
বহুজাতিক আমেরিকান কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ও ট্যাল্কযুক্ত অন্যান্য পণ্য ব্যবহারে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (৬৮ হাজার ২০ কোটি টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ট্যাল্কভিত্তিক কোনো পণ্য ক্যান্সারের কারণ নয়। এরপরও অভিযোগের কারণে বহুল ব্যবহৃত বেবি পাউডারের উপাদানে পরিবর্তন এনেছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির মামলা–সংক্রান্ত বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস সোমবার (২৭ জুলাই) বলেন, অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’। তবে দীর্ঘদিনের এ বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান করতেই তারা সমঝোতার পথে হেঁটেছেন। 

জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় প্রায় ৬৯ হাজার মামলা থাকবে। আগামী বছর সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে। ২০২৮ সালের আগে আর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হবে না। 

তবে সমঝোতাটি কার্যকর হতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার–সংক্রান্ত দাবির প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৫ শতাংশের সম্মতি লাগবে।


এক বিবৃতিতে এরিক হাস বলেন, আরও আইনি লড়াই চললে শেষ পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসনই জিতত। কারণ, এখন পর্যন্ত আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া বেশির ভাগ মামলায় প্রতিষ্ঠানটি জয় পেয়েছে। সমঝোতা হলে প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ ও চিকিৎসা–সরঞ্জাম উদ্ভাবনের কাজে আরও মনোযোগ দিতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানটির ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে প্রথম মামলা হয় ২০০৯ সালে। ওই বছর জুলাইয়ের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত কোম্পানিটির পক্ষে রায় দিয়ে প্রশ্ন তোলে, ট্যাল্কই বাদীদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সরাসরি কারণ— এটি তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না।

ট্যাল্ক ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক খনিজ। মসৃণ অনুভূতির কারণে এটি বেবি পাউডারে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের ট্যাল্কে থাকা অ্যাসবেস্টস (খনিজ পদার্থ) থেকে ক্যানসারের কারণ হয়েছে। ভোক্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগে মামলা করেছেন। ট্যাল্ক মাটি থেকে উত্তোলন করা হয় এবং এটি সাধারণত অ্যাসবেস্টসের খনিজ স্তরের কাছাকাছি পাওয়া যায়। এই অ্যাসবেস্টস আবার ক্যান্সারের কারণ হিসেবে পরিচিত।

তবে প্রতিষ্ঠানটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যাল্ক নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসারের কারণ নয়। 

২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যটি বিক্রি বন্ধ করেছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিশ্বব্যাপী পণ্যের তালিকা পর্যালোচনা করে তারা বাণিজ্যিকভাবে কর্নস্টার্চভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদনে যাচ্ছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   জনসন  বেবি পাউডার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: