সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
অক্টোবরে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে আইএমএফের মতামতের ওপর। রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল আয় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সংস্থাটি ইতোমধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে সরকার প্রস্তাবটি বাতিল না করে বিকল্প পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়তি ব্যয় এবং সামগ্রিক আর্থিক চাপ বিবেচনায় সংস্থাটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।
প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকার ধাপে ধাপে এ পে-স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা করলেও অক্টোবরের আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সময়ের আলো/এমকে