নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া নিরাপদ খাদ্য ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।
খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে কী আছে, তা জানার অধিকার প্রতিটি ভোক্তার। কিন্তু পেছনে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা তথ্য অনেকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব হয় না। তাই ভোক্তাকে সচেতন করতে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বির উপস্থিতি আমাদের নীরবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু ও তরুণদের বাঁচাতে হলে এফওপিএল নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই। এফওপিএল নিয়ে প্রবিধানমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যেখানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম।’
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে একটি সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাদ্য পরিবেশকে নিরাপদ করার মতো প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের আসক্তি বাড়ছে, যা তাদের অল্প বয়সেই স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলছে। কোনটা স্বাস্থ্যকর আর কোনটা ক্ষতিকর— তা তাৎক্ষণিকভাবে চেনার উপায় হিসেবে প্যাকেটের সামনের সহজ সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সময়ের আলো/কেএইচও