জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত, জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প ও অর্থায়ন বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’সহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন। তারা বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে জ্বালানি ও জলবায়ু সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। কোষ্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় সমাবেশে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, জ্বালানি সংকট জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। দেশে সৌর ও বায়ুশক্তিসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি, অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ক্ষত বহন করছে উপকূলের মানুষ। উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি, আবাস ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইলিশনির্ভর লাখো মানুষের জীবন-জীবিকাও সংকটে পড়েছে। কাজের সন্ধানে উপকূলের মানুষ ঢাকার বস্তিতে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। উপকূল রক্ষা ও মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্প থেকে বেরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের গবেষণা প্রধান ইকবাল ফারুক বলেন, আর নতুন কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প নয়, এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়ন করতে হবে। চলমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এখনই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। রেললাইন, নদীর পাড়, ওয়াপদা বাঁধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সহায়তা দিতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন ও সহনশীলতা বিভাগের প্রকল্প প্রধান আবুল হাসান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য বছরভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি এবং অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ঋণ হিসেবে নয়, অনুদান হিসেবে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সাইকেল র্যালি ও সমাবেশ: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার খুলনা জেলার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় সাইকেল র্যালি ও সমাবেশ হয়েছে। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে পাইকগাছার মাহমুদ কাটীতে অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যানার, ফেষ্টুন নিয়ে একটি সুসজ্জিত সাইকেল র্যালী শুরু হয়ে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি, কাশিমনগর এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সচেতন সংস্থার সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীরণ দে, অনির্বাণ লাইব্রেরির সহ-সভাপতি বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র, উন্নয়নকর্মী এস এম আফজাল হোসেন, পরিবেশকর্মী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সময়ের আলো/জেডি