দুবাইয়ে পরিবার, চন্দনাইশে একা বৃদ্ধের গলিত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

স্ত্রী, তিন ছেলে ও পুত্রবধূ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করেন। আর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে একা থাকতেন আবদুর

2026-07-28T20:45:38+00:00
2026-07-28T20:45:38+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
দুবাইয়ে পরিবার, চন্দনাইশে একা বৃদ্ধের গলিত মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম 
আবদুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
স্ত্রী, তিন ছেলে ও পুত্রবধূ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করেন। আর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে একা থাকতেন আবদুর রহমান (৬৫)। পরিবারের সদস্যরা ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে খাটের ওপর থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহমান স্থানীয় মিয়া সওদাগরের ছেলে। খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমান দীর্ঘদিন দুবাইয়ে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফেরেন এবং আর বিদেশে যাননি। গ্রামের বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন এবং নিজের রান্নাসহ দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া তিন ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে থাকেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে দুবাই থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ছোট ছেলের স্ত্রীকে খোঁজ নিতে বলেন। তিনি দোহাজারী থেকে বাবার বাড়ি থেকে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর আবদুর রহমানের গলিত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।


পুলিশ জানায়, মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকা ধরে গেছে এবং পুরো ঘরজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া বলেন, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবদুর রহমানকে সর্বশেষ বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তিনি আর বাইরে বের হননি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সদস্যরা দুবাইয়ে ফিরে গেলেও তিনি দেশে থেকে যান। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে বাবার বাড়িতে থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরের খোঁজখবর নিতেন। সোমবার খোঁজ নিতে এসেই তিনি মর্মান্তিক এই ঘটনার সন্ধান পান।

চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান একাই চলাফেরা করতেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর খুব বেশি মেলামেশা ছিল না। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব নগরপাড়া এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে আবদুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   দুবাই  পরিবার  চন্দনাইশ  বৃদ্ধ  গলিত মরদেহ  উদ্ধার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: