ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এমন একজনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি অতীতে বিলকিস বানু গণধর্ষণ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণরা যখন শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে, তখন বিজেপি এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করেছে, যিনি ধর্ষকদের রক্ষাকারী হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন, যিনি ধর্ষণ মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে কথা বলেছেন।
এর আগে লোকসভায় একই বিষয় উত্থাপন করেছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে তাঁর বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালে প্রহ্লাদ জোশী ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানুকে গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির আগাম মুক্তির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন।
সে সময় তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, দীর্ঘ কারাভোগ এবং ভালো আচরণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই মুক্তির আদেশকে বেআইনি ও এক্তিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। একই দিন সরকার প্রহ্লাদ জোশীকে দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/এমকে