বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতীয় নাগরিক হয়েও বাংলাদেশি সন্দেহে এক নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাইদা ফকির ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগর এলাকার বাসিন্দা। গত দুই দশক ধরে তিনি স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইয়ে গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করতেন।
এ ঘটনায় ওই নারীকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ছেলে সাইন ফকির ও পুত্রবধূ রূপালি কারিগর কলকাতা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালতে সাইদার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আদালত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
পরিবারের দাবি, গত ১৯ জুলাই বাজারে যাওয়ার সময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
স্বজনরা জানান, আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাইদাকে মুম্বাই থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরের আসামের একটি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। পরে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই গত ২৩ জুলাই আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।
বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
এর আগে একই ধরনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সোনালী বিবি ও তার পরিবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরতে সক্ষম হন। সে সময় আদালত যথাযথ যাচাই ছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছিল।
সাইদার পরিবারের দাবি, তারাও প্রশাসন ও মানবাধিকার কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/এমকে