ভেনেজুয়েলায় ‘সঠিক সময়ে’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রথম ভাষণে বুধবার তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণ করবে ভেনেজুয়েলার জনগণ।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘এই সাধারণ পরিষদের সামনে আমি বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই— ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় ভেনেজুয়েলার জনগণই নির্ধারণ করবে। সময় এলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত থাকবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা নেন রদ্রিগেজ। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা চলছে।
২০১৮ সালে মাদুরো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো ভেনেজুয়েলীয় রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেন। বর্তমানে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে কয়েক মাইল দূরে হেফাজতে রয়েছেন মাদুরো।
জাতিসংঘের মঞ্চে রদ্রিগেজের উপস্থিতিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভেনেজুয়েলার পুনঃসম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভাষণে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে আর বৈঠক হয়নি।
এ বছরের বিভিন্ন ‘ধাক্কা’ কাটিয়ে ভেনেজুয়েলা আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্টকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় চালুর আগ্রহ দেখানোয় তাকে ধন্যবাদ জানান রদ্রিগেজ।
তিনি বলেন, বিদ্যমান মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাত, নিরাপত্তা, আন্তদেশীয় অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
রদ্রিগেজ আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার আগে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন রদ্রিগেজ। মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের পর এই প্রথম তাদের মুখোমুখি বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রদ্রিগেজ বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির বিশাল তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদারত্ব দেওয়ার একটি চুক্তি ঘোষণা করে। রদ্রিগেজ ওই চুক্তিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প আধুনিকায়ন করা হবে।
ভেনেজুয়েলাকে অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের সময় থেকে পূর্ণ গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ পালনের অঙ্গীকারও করেন রদ্রিগেজ।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে চায় এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে চায়।
সময়ের আলো/কেএইচ