আগ্নেয়গিরি থেকে বেরোচ্ছে স্বর্ণের কণা

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আগ্নেয়গিরি মানেই উত্তপ্ত লাভা, ছাই, ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের উদ্গীরণ- এটা সবাই জানে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যেখান

2026-07-29T08:39:38+00:00
2026-07-29T08:52:01+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আগ্নেয়গিরি থেকে বেরোচ্ছে স্বর্ণের কণা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৯ এএম  আপডেট: ২৯.০৭.২০২৬ ৮:৫২ এএম
মাউন্ট এরেবাস। ছবি : সংগৃহীত
আগ্নেয়গিরি মানেই উত্তপ্ত লাভা, ছাই, ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের উদ্গীরণ- এটা সবাই জানে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসে খাঁটি স্বর্ণের অতিক্ষুদ্র কণা, তাও আবার প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম করে।

এন্টার্কটিকার দক্ষিণে রস সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করা এই আগ্নেয়গিরির চারপাশ বরফে ঢাকা হলেও, এর ভেতরে রয়েছে ফুটন্ত লাভার হ্রদ। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা গ্যাসের সঙ্গে এখান থেকে প্রতিদিন নিখাদ স্বর্ণের অতি সূক্ষ্ম কণা নির্গত হচ্ছে।

সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে সাধারণত নিয়মিত গ্যাস, ধোঁয়া, ধুলো ও লাভা বের হয়। তবে, মাউন্ট এরেবাসের গ্যাসে স্ফটিকাকার মৌলিক স্বর্ণের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কারণ। ১৯৯১ সালে এ আগ্নেয়গিরি নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় Geophysical Research Letters সাময়িকীতে। সেই গবেষণাতেই প্রথম জানানো হয়, এরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম স্বর্ণের কণা বেরিয়ে আসে। আণুবীক্ষণিক আকারের এসব কণা বাতাসে ভেসে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং এন্টার্কটিকার বরফের ওপর জমা হয়।


অবশ্য আগ্নেয়গিরি থেকে স্বর্ণের উপস্থিতি একেবারে নতুন নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়েয়া, ইতালির এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন এবং মেক্সিকোর এল শিশন আগ্নেয়গিরির নিঃসৃত পদার্থেও স্বর্ণের সন্ধান মিলেছে। এমনকি সেসব আগ্নেয়গিরি থেকে প্রতিদিন আরও বেশি পরিমাণ স্বর্ণ নির্গত হয়। তবে, মাউন্ট এরেবাসকে বিশেষ করে তুলেছে একটি বিষয়- এখানেই প্রথম স্ফটিকাকারে মৌলিক স্বর্ণের কণা নির্গত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উত্তপ্ত ম্যাগমার স্তর অতিক্রম করে কীভাবে এই স্বর্ণ অক্ষত অবস্থায় বাইরে আসে, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।

আমেরিকার নিউ মেক্সিকো ইন্সটিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভূ-রসায়নবিদ কিম্বারলি মিকার এবং তার দলের মতে, এরেবাসে স্বর্ণ এমন আচরণ করছে, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই গবেষকদলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এরেবাসের জ্বালামুখের চারপাশের বরফ, লাভা হ্রদ থেকে ওঠা গ্যাসের কুণ্ডলী এবং আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে এন্টার্কটিকার ট্রপোস্ফিয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনটি ক্ষেত্রেই নমুনায় স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা পাওয়া গেছে।

গবেষকদের একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লাভার সঙ্গে নির্গত ক্লোরিনযুক্ত যৌগের মাধ্যমে স্বর্ণ বাইরে আসে। পরে গ্যাস ঠাণ্ডা হয়ে গেলে স্বর্ণ পৃথক হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে এন্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ বরফের ওপর জমা হতে থাকে।

নিউ মেক্সিকো ইন্সটিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কাইল পরে আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের গবেষকদলের সদস্য ছিলেন তিনি। তার মতে, লাভা হ্রদের ওপরের স্তরে স্বর্ণ ধীরে ধীরে জমা হয়। তারপর গ্যাসের সঙ্গে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই তত্ত্বের সঙ্গেও সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। ৩০ বছর ধরে তাই রহস্যের নাম মাউন্ট এরেবাস। এখনো সমাধান খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র : আনন্দবাজার

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   আগ্নেয়গিরি  স্বর্ণ  সোনা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: