আলোচনা নাকি যুদ্ধ, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই নির্ধারিত হচ্ছে যুদ্ধের গতিপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের

2026-09-14T19:31:12+00:00
2026-09-14T19:31:12+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আলোচনা নাকি যুদ্ধ, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই নির্ধারিত হচ্ছে যুদ্ধের গতিপথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম 
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : গালফ নিউজ
ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা সংঘাত আরও বিস্তৃত করার কৌশলকে সমর্থন করছেন। 

এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বই এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হরমুজে হামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে আসে বিভাজন  

জুলাইয়ের শুরুতে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরাক সফরে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালি থেকে আসে চমকে দেওয়ার মতো খবর।

ইরানি বাহিনী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এতে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং আরও দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তা ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের সদস্যদের সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

এমনকি রেভল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডার-ইন-চিফও নাকি হামলার বিষয়ে আগে অবগত ছিলেন না।

পেজেশকিয়ান ক্ষুব্ধ হয়ে জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে ফোন করে হামলার ব্যাখ্যা চান। ভাহিদি তাঁকে জানান, তিনি হামলার অনুমোদন দেননি এবং আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানতেনও না।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকেও হামলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি

পেজেশকিয়ান দ্রুত তেহরানে ফিরে যান। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা বিমান হামলা চালায় এবং দুই দেশ আবারও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এরপর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয় এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে। এমনকি দুই শীর্ষ জেনারেল পদত্যাগের হুমকিও দেন।

এই অস্থিরতার পর সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার মোহসেন রেজায়িকে কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে ওঠে।

তবে এতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি।

তিন জাহাজে হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন?

ইরানি সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার তদন্তে তিনটি জাহাজে হামলার সিদ্ধান্তের সঙ্গে হোসেইন তাইয়েবের নাম উঠে এসেছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন তিন ইরানি কর্মকর্তা।

তাইয়েব একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

তাঁর যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে চুক্তিতে যাওয়া ইরানের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

এরপর আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁকে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মোজতবা খামেনিকে তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাইয়েব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। যুদ্ধের শুরুতে আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা সর্বোচ্চ নেতা হন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন করছে বলে মনে হলে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষা না করে জাহাজে হামলার ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের দেওয়া হয়েছিল।

পরে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানায়, কিছু ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ওই হামলার জন্য দায়ী। পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ওমানে পাঠানো হয়।

‘ছায়াময়’ সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আরও বড় একটি প্রশ্ন রয়েছে— দেশটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে কে নিচ্ছেন?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তাঁর অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

এমনকি তাঁর নামে প্রকাশিত বক্তব্য ও বার্তার সত্যতা নিয়েও ইরানের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে না দেখেই ইরান কতদিন চলতে পারে। তাঁকে ঘিরে নেওয়া অস্বাভাবিক নিরাপত্তাব্যবস্থা মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

সম্প্রতি মোজতবা খামেনির শাশুড়ি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরিবারের সদস্যরাও তাঁর বা তাঁর তিন সন্তানের কোনো খবর জানেন না। তাঁর শ্বশুরও বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ নেতা কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না।

পেজেশকিয়ানও নিশ্চিত ছিলেন না?

মোজতবা খামেনিকে ঘিরে এই অনিশ্চয়তা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে।

পেজেশকিয়ান দাবি করেছিলেন, মে মাসে তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে কর্মকর্তারা ওই সাক্ষাতের ব্যবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু তথ্য দিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালো কাচে ঢাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপদ ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

স্ক্রিনে একজন ব্যক্তি নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতার মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন।

পরে পেজেশকিয়ান তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কাছে স্বীকার করেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি আসলে মোজতবা খামেনির সঙ্গেই যোগাযোগ করছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না।

ইরানের সামনে দুটি পথ

এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত—তা নিয়ে মতবিরোধ।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব দুটি ভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে।

একটি হলো আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরা।

অন্যটি হলো যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা।

দ্বিতীয় কৌশলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা, মার্কিন সেনাদের হত্যার চেষ্টা এবং বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

দুই কৌশলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অবশ্য একই—ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে ওয়াশিংটনকে বাধ্য করা।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওই অবরোধ দেশটির বাণিজ্য কার্যক্রম কার্যত অচল করে দিয়েছে এবং ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে দিয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দেশটির মুদ্রার মূল্য কমছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং সরকারের নগদ অর্থের ঘাটতিও ক্রমশ বাড়ছে।

কট্টরপন্থীদের যুদ্ধ বাড়ানোর চাপ

রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ কমান্ডাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাছে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে ইরান এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরও বড় আকারে হামলা চালানোর কথা বলা হয়।

বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।

এছাড়া আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালানোর কথা বলা হয়। এর মাধ্যমে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।

তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই কৌশলের বিরোধিতা করেন। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রধান আলোচকও।

তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন কৌশল ইরানকে আরও ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা এবং আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কট্টরপন্থীদের হাতেই কি ক্ষমতার পাল্লা?

তবে বর্তমানে ক্ষমতার ভারসাম্য কট্টরপন্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তের মধ্যে কট্টরপন্থীরা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনাপ্রবাহেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্রমেই আরও আক্রমণাত্মক হামলা চালাচ্ছে। তেহরান মার্কিন নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, আর ওয়াশিংটন ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করছে।

গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখন উত্তেজনা বৃদ্ধির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। 

ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখন আর শুধু তেহরানের রাজনৈতিক অন্দরমহলের বিষয় নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুদ্ধের গতিপথেও।

সাম্প্রতিক সময়ে হামলার মাত্রা কিছুটা কমলেও অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বের সমাধান হয়নি। বরং সামনে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তেহরানের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কারা? আলোচনার পক্ষে থাকা গোষ্ঠী, নাকি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে চাওয়া কট্টরপন্থীরা?

সূত্র : গালফ নিউজ 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  মাসুদ পেজেশকিয়ান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: