রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল এগিয়ে নিয়েছে মার্কিন সিনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর, বিশেষ করে ভারত ও চীনের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিনেটে বিলটি ৮৬-১২ ভোটে প্রাথমিক অনুমোদন পায়। এতে প্রায় সব রিপাবলিকান এবং অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
সিনেটে ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টা আগে চলতি মাসে আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন গ্রাহাম, আর তার নামেই বিলটির নামকরণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ধনকুবের (অলিগার্ক), আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রুশ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে। তবে যেসব দেশ তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে নেয় এবং সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য কিছু ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিলটির সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগানের সক্ষমতা দুর্বল করা হবে।
ছয়জন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই দ্বিদলীয় চুক্তিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।
যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তবু কিছু ডেমোক্র্যাট সিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিলের শুল্কসংক্রান্ত ধারা প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিপণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্ররাও এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
বিলটি আইন হতে হলে সিনেটে চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদনও প্রয়োজন। এরপর সেটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ওয়াশিংটন ছেড়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের আগে বিলটি সেখানে বিবেচনার সম্ভাবনা খুবই কম।
সময়ের আলো/কেএইচ