ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, নিহত বেড়ে ৭৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা শনিবার আরও ৪১টি দগ্ধ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছেন।

2026-09-15T10:26:29+00:00
2026-09-15T10:26:29+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, নিহত বেড়ে ৭৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা শনিবার আরও ৪১টি দগ্ধ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জন।

ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করা মরদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক দল কাজ করছে। শুক্রবার উদ্ধার করা ৩০টি মরদেহ করোন শহরের একটি বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে মরদেহ পরীক্ষা ও শনাক্তের জন্য অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবারও কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ থেকে কালো ব্যাগে করে মরদেহের অবশিষ্টাংশ তাঁবুতে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের অনেকে বন্দরের কাছে অপেক্ষা করছিলেন। প্রিয়জনের খোঁজে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছিলেন তারা।

নিখোঁজদের একজনের স্বজন অ্যানেলিন ম্যাগবানুয়া। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী জানান, তার স্বামী সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে ম্যানিলায় গিয়েছিলেন। ফেরিতে করে করোনে ফেরার পথে আগুনের ঘটনা ঘটে।

অ্যানেলিন বলেন, তিনি আশা করছেন তার স্বামী নিহতদের মধ্যে নেই। হয়তো তিনি বেঁচে আছেন এবং অন্য কোনো দ্বীপে ভেসে গেছেন। স্বামী সত্যিই মারা গেলে বিষয়টি মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে বলেও জানান তিনি।

আগুন নেভানোর এক দিনেরও বেশি সময় পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো উদ্ধারকারীরা ফেরিটির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপের কারণে এর আগে জাহাজটির বেশ কিছু অংশে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ফেরিটির যাত্রীদের থাকার অর্থনৈতিক শ্রেণির অংশ থেকে দগ্ধ মরদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ছবিতে আগুনে ফেরিটির ভেতরের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। তীব্র তাপে লোহার খাটের সারি বেঁকে গেছে এবং সেগুলো ছাইয়ে ঢেকে রয়েছে। কিছু ছবিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কঙ্কালের মতো অবশিষ্টাংশও দেখা গেছে।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিলা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

দেশটির মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে ফেরিটির ভেতরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জিএমএ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী জানান, প্রথমে তিনি অল্প পরিমাণ ধোঁয়া দেখতে পান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনে পরিণত হয় এবং দ্রুত ফেরিটির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ফেরিটির ক্যাপ্টেনের ভাগ্য নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবিয়াব জানান, ক্যাপ্টেন জীবিত আছেন বলে তিনি তথ্য পেয়েছেন। তবে ৪৩ জন নিশ্চিতভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির তালিকায় ক্যাপ্টেনের নাম নেই।

ফেরিটি ২০ ঘণ্টার বেশি সময়ের যাত্রার শেষদিকে করোনের কাছে আগুনের কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।

৭ হাজার ৬০০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে প্রদেশ ও দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে লাখো মানুষ ফেরি ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে এর আগেও একাধিক ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফেরিতে আগুনের এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ প্রাণঘাতী সামুদ্রিক দুর্ঘটনা।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ফিলিপাইন  আগুন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: