ইরান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির প্রথম হিসাব দিল পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা

2026-09-15T08:58:04+00:00
2026-09-15T08:58:04+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির প্রথম হিসাব দিল পেন্টাগন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুতও কমে যায়।

হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিভিন্ন স্থানে সেনা, সরঞ্জাম ও মজুতকেন্দ্র সরিয়ে নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাক ও কুয়েত থেকে সেনাবাহিনীর চিকিৎসা-উদ্ধার হেলিকপ্টার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আহত বা অসুস্থ সেনাদের স্থলপথে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।

বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ায় নৌঘাঁটি ও সহায়তা বন্দর পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপকে সমুদ্রভিত্তিক সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরবরাহ পৌঁছানোর সময় বেড়ে ১৪ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত হয়েছে।

সরবরাহে মাঝেমধ্যে ঘাটতি এবং সামরিক ডাকব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা মার্কিন নৌসেনাদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ইরানে বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকতে হচ্ছে।

যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতিতেও স্থায়ী পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা অঞ্চলটিতে সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের হামলায় এসব স্থাপনায় প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তবে সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

মার্চের শুরুতে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের দুটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দূতাবাস চত্বরে থাকা সিআইএর কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একই সময়ে দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটে একটি ড্রোন হামলা চালানো হলে একটি ইউটিলিটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসেও ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর মার্চে দূতাবাসটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। জুনের শেষ দিকে আমেরিকান নাগরিকদের জন্য জরুরি কার্যক্রম আবার চালু করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মে পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ৬০০টির বেশি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়, যা কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছিলেন। অঞ্চলটির অধিকাংশ মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের অনুমোদিত বা বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে অধিকাংশ মিশন সীমিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: