কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যত দ্রুত উন্নত হচ্ছে, এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এসব উদ্বেগকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের অগ্রগতির গতি কমানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিটির ঝুঁকি নিয়ে কিছু পক্ষ অতিরঞ্জিত করছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ এবং এআই প্রযুক্তিতেও চীনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তার মতে, এআইয়ের দৌড়ে যে দেশ এগিয়ে থাকবে, শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হবে। তবে এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছু নিরাপত্তাবিধি বা নিয়ন্ত্রণ রাখা যেতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই নিয়ে কিছু পক্ষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং এমন কিছু ঝুঁকির কথা বলছে, যেগুলো বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা নেই। এআইয়ের অগ্রগতির গতি কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নতুন করে আহ্বান জানানোর পরই তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এর আগে শনিবার অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি এআই নিরাপত্তা নিয়ে আরও গবেষণা ও কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অ্যামোডেইয়ের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান স্যার ডেমিস হাসাবিস এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
অ্যামোডেইয়ের মতে, এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন থাকা উচিত। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে যেন গোপন সমঝোতার অভিযোগে আইনি ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ছাড়া চীনকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার জন্য হোয়াইট হাউজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীন এতে সম্মত না হলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এআই চিপ রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরামর্শও দিয়েছেন অ্যামোডেই।
এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমে গেলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যেও, যা সম্প্রতি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
এ অবস্থায় সোমবারের শেয়ারবাজার নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহান্তের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা যায়। স্প্রেড-বেটিং প্রতিষ্ঠান আইজির টেক ১০০ সূচক রোববার প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চিপ নির্মাতা মাইক্রন, মারভেল ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারমূল্য ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ফ্রিডম ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান পল মিকস বলেন, বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমলে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ বা আইপিও আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এখনই শেয়ারবাজারে আসা উপযুক্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অ্যানথ্রপিক অবশ্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের গ্যারি ট্যানের মতে, এআই নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে স্বল্পমেয়াদে বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এআই খাতে বিনিয়োগের ধারা থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ