পাকিস্তানের সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের গ্রেফতারে সহায়ক তথ্যের পুরস্কার বাড়িয়ে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করেছে দেশটি। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) এই ঘোষণা দিয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির বৈঠকগুলোতে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং বিশেষ নজরদারিতে থাকা দেশগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সময় নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, আজহার পাকিস্তানে নেই, আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে।
তবু পাকিস্তানের ২০২৬ সালের আপডেটেড ‘রেড বুক’-এ মাসুদ আজহারের নাম রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা থেকে পুরস্কার মূল্য বাড়িয়ে পাকিস্তানি টাকায় ৭০ লাখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরস্কারের অঙ্ক এক ধাক্কায় সাড়ে তিন গুণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি নথিতেই এখন তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আজাহার পাকিস্তানেই সক্রিয়। ফলে পাকিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে এবার সত্যিই কোনো অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভারতের বুকে হওয়া একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার।
সংসদ ভবনে হামলা, পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনাতেও সংগঠনটির নাম উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাতেও রয়েছে তার নাম।
১৯৯৯ সালে আই-৮১৪ বিমান অপহরণকাণ্ডের পরে যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তিন জঙ্গিকে জেল থেকে ছেড়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন মাসুদ আজহার। মুক্তির পরেই জইশ-ই-মোহাম্মদ গড়ে তোলেন তিনি।
ফলে এফএটিএফ বৈঠকের ঠিক আগে পাকিস্তানের এই ‘পুরস্কার ঘোষণা’ কতটা বাস্তব পদক্ষেপ আর কতটা আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ