শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে ইইউ।
এর এক দিন আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বয়সসীমার বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রান্স ও গ্রিসসহ ইইউর বিভিন্ন সদস্যদেশ এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ রয়েছে। ২৭ দেশের জোটের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লেইন বিষয়টি তুলে ধরবেন।
ইইউ কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ গিল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ফন ডার লেইন এবং ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক কমিশনার হেনা ভিরকুনেন যৌথভাবে ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ উপস্থাপন করবেন।
শিশুদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগ
ফন ডার লেইন শিশুদের ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শুরু থেকেই নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন। এর অর্থ হলো, এমন কোনো ফিচার না রাখা বা সরিয়ে ফেলা, যা শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে পারে কিংবা তাদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটাতে উৎসাহিত করে।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল ১৩ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণের দাবি
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার নজির স্থাপন করেছে।
ইইউর প্রস্তাবিত নতুন আইনও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ