সবজি উৎপাদনের এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার ঘর পেরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পটল এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রকারভেদে ২৯০ থেকে ৩১০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া আদা ১০০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, করলা ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, শসা ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং টমেটো ৮০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক বিক্রেতা কেজির পরিবর্তে পোয়া হিসেবে সবজি বিক্রি করছেন। এতে সীমিত আয়ের মানুষেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনতে পারছেন না।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রমজান আলী বলেন, ‘আগে যে টাকায় প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে পারতাম, এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শাক, কচুর লতি ও কচুর মুখী কিনে পরিবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি।’
তবে সবজির দাম বাড়ায় উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন কম দামে সবজি বিক্রি করার পর এখন কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, ‘বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে সিন্ডিকেট করে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।’
সময়ের আলো/এসএকে