আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর ইবাদতের জন্য দরকার সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে নামাজ আদায় করা কষ্ট হয়, হজ পালনে অক্ষমতা দেখা দেয়, জাকাত আদায়ের জন্য সম্পদ অর্জন সম্ভব হয় না। এসব কারণে ইসলামে স্বাস্থ্য সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে’ (বুখারি : ৫৭০৩)। শরীরকে সুস্থ-সবল রাখা, অতিরিক্ত কষ্ট না দেওয়া, প্রয়োজনে বিশ্রাম দেওয়া, পরিমিত খাবার খাওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করা- এসব শরীরের হক।
মানুষ যখন শরীরের প্রতি যত্নবান হবে তখন ইবাদত-বন্দেগি করা অনেক সহজ হবে। ইবাদতের জন্য কায়িক ও শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য প্রয়োজন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় সবল মুমিন অধিক কল্যাণকর এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আর যা তোমাকে উপকৃত করবে, সেটিই কামনা করো।’ (মুসলিম : ২৬৬৪)
শরীরের সুস্থতা ও সক্ষমতা এমন এক নেয়ামত, যা বিশেষভাবে কদর করতে বলা হয়েছে হাদিসে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করো-
১. জীবনকে মৃত্যু আসার আগে।
২. সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার আগে।
৩. অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার আগে।
৪. যৌবনকে বার্ধক্য আসার আগে এবং
৫. সচ্ছলতাকে দরিদ্রতা আসার আগে।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৮/১২৭; সহিহুল জামে : ১০৭৭)
নবীজি (সা.) নিয়মিত হাঁটতেন, মাঝেমধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন, সাহাবিদের সঙ্গে কুস্তি লড়তেন। হাদিসে কিতাবে এরকম অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এমনকি মাঝেমধ্যে পূর্ণিমার রাতে প্রিয়তম স্ত্রীদের সঙ্গেও দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। নবীজি (সা.)-এর হাঁটার ভেতরও সবসময় স্বতঃস্ফূর্ততা বিরাজ করত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘আমি নবীজি (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতিতে কাউকে হাঁটতে দেখিনি।’ (তিরমিজি : ৩৬৪৮)
মানুষের শরীরে খাবারে বড় একটা প্রভাব রয়েছে। তাই সাবধানে ও সতর্কতার সঙ্গে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা। অতিরিক্ত খাবার যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি একেবারে কম খাওয়াও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) খুব পরিমিত আহার করতেন এবং সাহাবিদের পেটের এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানীয়, আর এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ফাঁকা রাখতে বলতেন। (বুখারি : ৫০৮১; তিরমিজি : ১৩৮১)
শরীর ও মনের জন্য পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি গুণ আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। অপরিচ্ছন্নতা ও এলোমেলো পরিবেশ শরীরে রোগব্যাধি ছড়ায়। আর ধীরে ধীরে এর প্রভাব মন ও মস্তিষ্ককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তাই মহানবী (সা.) এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয় মানুষের স্বভাবজাত-
১. খতনা করা।
২. নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা।
৩. গোঁফ কাটা।
৪. নখ কাটা।
৫. বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা।’ (বুখারি : ৫৮৮৯)
সময়ের আলো/কেএইচও