ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবারই কৌতূহল থাকে। মানুষের এ কৌতূহলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু মানুষ অর্থ উপার্জন বা স্বার্থ সিদ্ধি করছে। পৃথিবীর কোনো মানুষকে ভবিষ্যৎ জানার সক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতের বিষয় সম্পর্কে কেবল আল্লাহ জানেন- এটাই মুসলমানদের বিশ্বাস। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ভবিষ্যৎ জানে, এ কথা ভাবলে ঈমান চলে যাবে।
আল্লাহ বলেছেন, ‘বলে দিন, আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না তারা কখন পুনরুত্থিত হবে’ (সুরা নামল : ৬৫)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘ধাকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই এবং কেয়ামতের ঘটনা চোখের পলকের মতো, বরং তার চেয়েও অতিদ্রুত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সুরা নামল : ৭৭)
রাসুল (সা.)-এরও ভবিষ্যতের বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা যা জানিয়েছেন তা ছাড়া আর কিছু জানা ছিল না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(নবীজি বলেন) আমি তোমাদের এ কথা বলছি না যে, আমার কাছে আল্লাহর সব ধনভান্ডার রয়েছে এবং আমি (এ কথা বলছি না যে আমি) অদৃশ্যের সব কথা জানি। আর আমি এটাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আর যারা তোমাদের চোখে হীন; আমি তাদের সম্বন্ধে এটা বলতে পারি না যে, আল্লাহ কখনো তাদের কোনো নেয়ামত দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা কিছু আছে তা আল্লাহ উত্তমরূপে জানেন, আমি তো এরূপ বললে অন্যায়ই করে ফেলব।’ (সুরা হুদ : ৩১)
আল্লাহ তায়ালা একমাত্র ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানেন। রাসুল (সা.)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘(হে মুহাম্মদ) আপনি ঘোষণা দিন, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোনো অধিকার নেই।
আমি যদি অদৃশ্যের বিষয় ও সংবাদ জানতাম তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারতাম আর কোনো অমঙ্গল ও অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতে পারত না (অদৃশ্যের কোনো খবরই আমি রাখি না)। আমি শুধু মুমিনদের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদবাহী।’ (সুরা আরাফ : ১৮৮)
ভবিষ্যৎ ও অদৃশ্যের মূল নিয়ন্ত্রণ আল্লাহ তায়ালার হাতে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে রয়েছে গায়েব ও অদৃশ্যের চাবিগুলো এবং এক তিনি ছাড়া এ সম্পর্কে কারও জ্ঞান নেই’ (সুরা আনআম : ৫৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘শুনে রাখো, তাদের অশুভ আলামতের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহরই হাতে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।’ (সুরা আরাফ : ১৩১)
যদি কেউ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার দাবি করে তার সম্পর্কে হাদিসে কঠিন ধমকি এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে এলো, তারপর তাকে ভাগ্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করল এবং গণকের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল তা হলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হবে না।’ (মুসলিম : ২২৩)
সময়ের আলো/আআ