হাসি-খুশি থাকা মানুষের জীবনের অন্যতম বড় নেয়ামত। মানুষের মুখের হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়, বরং এটি ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও মনের প্রশান্তিরও বহিঃপ্রকাশ। একটি আন্তরিক হাসি যেমন অন্যের মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসলাম মানুষের পারস্পরিক আচরণে সৌন্দর্য ও আন্তরিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মানুষের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা, সুন্দর আচরণ করা এবং হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার শিক্ষা ইসলামের বিভিন্ন নির্দেশনায় পাওয়া যায়। কারণ মানুষের প্রতি ভালো ব্যবহার শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একজন মুমিনের চরিত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কারও মুখে আনন্দের হাসি দেখেও তার জন্য সুন্দর দোয়া করার শিক্ষা রয়েছে ইসলামে। এ বিষয়ে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একবার তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে হাসতে দেখে তার জন্য একটি সুন্দর দোয়া করেছিলেন।
দোয়াটি হলো— أَضْحَكَ اللّٰهُ سِنَّكَ
উচ্চারণ : আযহাকাল্লাহু সিন্নাকা।
অর্থ : সর্বদা আল্লাহ তায়ালা আপনাকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর হাসি দেখে হজরত ওমর (রা.) এ দোয়া করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, অন্যের আনন্দ ও হাসিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং তার জন্য কল্যাণ কামনা করাও সুন্দর ইসলামী আচরণের অংশ।
মানুষের জীবনে দুঃখ, হতাশা ও নানা ধরনের সংকট থাকতেই পারে। এর মধ্যেও হাসিমুখে থাকা, অন্যকে ভালো কথা বলা এবং মানুষের মনে আনন্দ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সামান্য একটি হাসি বা আন্তরিক কথা একজন হতাশ মানুষের মনে আশার আলো জ্বালাতে পারে।
তাই নিজের হাসিকে শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় হিসেবে না দেখে অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যম হিসেবেও দেখা উচিত। একই সঙ্গে অন্যের হাসিতেও আনন্দিত হয়ে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করা সুন্দর চরিত্রের পরিচয়। ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে আমরা যদি পরস্পরের সঙ্গে হাসিমুখে ও সুন্দর আচরণে কথা বলি, তাহলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি সমাজেও সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তথ্যসূত্র : বুখারি, হাদিস : ৩২৯৪
সময়ের আলো/এসএকে