অপরাধে জড়িতদের বাদ দিয়ে নিট আন্দোলনের মামলা বন্ধ করছে ভারত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, নিট (ইউজি) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো

2026-07-30T19:02:23+00:00
2026-07-30T19:09:37+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অপরাধে জড়িতদের বাদ দিয়ে নিট আন্দোলনের মামলা বন্ধ করছে ভারত সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০২ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ৭:০৯ পিএম
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, নিট (ইউজি) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো নেতিবাচক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাদের অপরাধমূলক অতীত (ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্ট) রয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবেন না।   

২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) 'চলো সংসদ' কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেদিন যন্তর-মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করার সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করে।   

দিল্লি পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২ হাজার ৮৭৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।  

দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে মোট ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের কোনো কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো নেতিবাচক আইনি ব্যবস্থা নেবে না। তবে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না। 

সরকার আরও জানিয়েছে, যেসব মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন 

কেন্দ্র সরকার আগে থেকেই আশ্বাস দিয়েছিল, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।  

সিজেপির নেতৃত্বে গত মাসে আন্দোলন শুরু হয়, যখন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে নিট (ইউজি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরালো হয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করার পর। 

২০ জুলাই 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে হাজারো আন্দোলনকারী সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং পেলেট গান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশের দাবি ছিল, ওই সমাবেশ বেআইনি ছিল।

পরবর্তীতে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকের পর সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেয়। এর মধ্যে ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সুপারিশ করতে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন। সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর ২৫ জুলাই সিজেপি তাদের ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে। 


এফআইআর ও অপরাধমূলক অতীত নিয়ে বিতর্ক  

দিল্লি সরকারের এই সিদ্ধান্তের আগে এনডিএ-শাসিত কয়েকটি রাজ্যও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। 

প্রথমে বিহার সরকার নীটবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত সব এফআইআর, ফৌজদারি অভিযোগ ও শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তির কথা জানায়। তারা আরও জানায়, ২৬ জুলাইয়ের আগে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। 

এরপর আসাম সরকারও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেন, রাজস্থান সরকারও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তার মতে, সেখানে কোনো এফআইআর দায়ের হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

'অপরাধমূলক অতীত' রয়েছে ৯৮৯ জনের 

দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় শনাক্ত ২ হাজার ৮৭৩ জনের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

পুলিশের দাবি, এদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, যৌন নির্যাতন, অপহরণ, অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। অনেকেই পেশাদার অপরাধী এবং আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের। 

তবে সিজেপির অভিযোগ, সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা থেকে সরে এসেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এফআইআর প্রত্যাহার না করা হলে এবং আটক ছাত্রছাত্রীদের মুক্তি না দিলে তারা আবার আন্দোলনে নামবে।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো এফআইআর না করার দাবি জানান। অন্যদিকে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের আশ্বাস সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে এখনও পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে ছাত্রনেতারাও, বিশেষ করে বিহারে আন্দোলনকারীদের আটকে রাখার সমালোচনা করে, নিটবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   নিট  প্রশ্নফাঁস  আন্দোলন  দিল্লি  সরকার  ভারত  ককরোচ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: