ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের দোইওয়ালা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন সৃষ্টি কান্দারি নামের এক সরকারি শিক্ষিকা। মৃত্যুর আগে তিনি একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে সরকারি শিক্ষিকা সৃষ্টি কান্দারির সঙ্গে সরকারি কর্মী সৌরভ রথুরির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দোইওয়ালা এলাকায় তারা বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে এবং নানা অজুহাতে সৃষ্টিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি তাকে প্রতিনিয়ত 'অভাগা' ও 'মনহুষ (অশুভ)' বলে কটূক্তি করা হতো।
আত্মহত্যার পূর্বে ৯০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন সৃষ্টি কান্দারি। ভিডিওটিতে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, সরি মাম্মি, আমি এভাবেই চলে যাচ্ছি... সবকিছু এত অদ্ভুত হয়ে গেছে। আমি গত ছয় মাস ধরে এগুলো সহ্য করছি... এখন আর সহ্য করতে পারছি না। ওদের মানসিকতা কখনোই বদলাবে না। বিয়ের পর যা কিছু ঘটেছে, তার সবকিছুর জন্য ওরা আমাকেই দোষারোপ করে। আমাকে 'মনহুষ' বলে।
এরপরই তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও একটি ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
দোইওয়ালার সার্কেল অফিসার বন্দনা বর্মা জানান, মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় মৃতার স্বামী সৌরভ রথুরি, শাশুড়ি পারভিনা এবং ননদ চারুকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যৌতুকের কারণে মৃত্যুর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ