আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য একবেলা রান্না করা খাবারই দুবেলা পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সকালের নাস্তা এবং দিনে দুইবার (দুপুর ও রাত) খাবার সরবরাহ করার কথা। তবে বাস্তবে সকালে একবার রান্না করা খাবারই দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র ও রোগীদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে রান্না করা খাবার দুপুর ১টার দিকে রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরে একই খাবার বিকেল ৫টার দিকে রাতের খাবার হিসেবে রোগীদের হাতে দেওয়া হয়।
রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, দুপুরে যে ভাত, ডাল ও তরকারি দেওয়া হয়, রাতেও সেই একই খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেল ৫টায় খাবার হাতে পাওয়ার পর অধিকাংশ রোগী রাত ৮টার পর তা খেয়ে থাকেন। এত দীর্ঘ সময় খাবার সংরক্ষণ করে রাখায় এর মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের অভিযোগ, খাবার যথাযথভাবে ঢেকে বা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। অনেক সময় খোলা অবস্থায় থাকায় খাবারের ওপর মাছি-মশা বসতে দেখা যায়, যা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার রোগীদের জন্য সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবারের বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে একবার রান্না করা খাবারই দুইবেলা পরিবেশন করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা খাবার খেতে বাধ্য হওয়া রোগীদের সঙ্গে অবহেলার শামিল। আমরা চাই প্রতিটি বেলায় নতুন করে রান্না করা নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা হোক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী জানান, অসুস্থ মানুষের জন্য টাটকা ও মানসম্মত খাবার প্রয়োজন। কিন্তু একবার রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে দুই দফায় পরিবেশন করায় তারা দুর্ভোগে পড়ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার নির্ধারিত সময়ে আলাদাভাবে রান্না করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিবেশন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জোই