নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে সাদিয়াকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে।
ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগে গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন প্রিয়া আক্তার নামে এক নারী। মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন সাদিয়াকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে সাদিয়া জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সাদিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি অভিযোগের জবাব দিয়ে রেহাই পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাদিয়া ‘সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের আক্রোশের শিকার’ বলেও দাবি করেন ফাহিম রহমান।
সময়ের আলো/এসএকে