ব্যর্থতার বৃত্তে সিটি করপোরেশন

সমীরণ রায়

জাতীয়

রাজধানীবাসীর জন্য বর্ষা এলেই আতঙ্কের আরেক নাম ডেঙ্গু। বছরের পর বছর ধরে মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়

2026-08-01T03:45:49+00:00
2026-08-01T03:45:49+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ব্যর্থতার বৃত্তে সিটি করপোরেশন
সমীরণ রায়
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রাজধানীবাসীর জন্য বর্ষা এলেই আতঙ্কের আরেক নাম ডেঙ্গু। বছরের পর বছর ধরে মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ছিটানো হয় ওষুধ। চালানো হয় লার্ভা ধ্বংসে অভিযান। পাশাপাশি চলে সচেতনতামূলক প্রচার ও বিজ্ঞাপন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে না পারায় প্রতি বছরই নতুন করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়, সারা বছরই এর ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানীবাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। কিন্তু বাস্তবে দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে অনেক সময় দৃশ্যমান ধোঁয়া ছড়ানো বা ওষুধ ছিটানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফগিং করলে উড়ন্ত পূর্ণবয়স্ক মশা সাময়িকভাবে কমে। কিন্তু মশার ডিম বা লার্ভা ধ্বংস না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মশা জন্ম নেয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মূল গুরুত্ব দিতে হবে লার্ভা ধ্বংসের। 

এর জন্য জরুরি নিয়মিত জরিপ, এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, হটস্পট চিহ্নিতকরণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে এখনও সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর রোগীর তথ্য সংগ্রহ করছে। আর দুই সিটি করপোরেশন মশা নিধন করছে। কিন্তু রোগীর অবস্থানভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত হটস্পটভিত্তিক অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 

অথচ প্রতি বছর মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। কেনাকাটা হয় কীটনাশক, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সামগ্রী। কিন্তু এই ব্যয়ের বিপরীতে ফল নেই। ওষুধের কার্যকারিতা, প্রয়োগের নিয়ম, সংরক্ষণ, মজুদ ও ব্যবহারের হিসাব-সবকিছুর স্বচ্ছতা জরুরি। শুধু বাজেট বাড়ালেই মশা নিয়ন্ত্রণ হবে না। 

প্রয়োজন দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম, নিয়মিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও জবাবদিহি। কোনো ওয়ার্ডে রোগী বাড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাব দিতে হবে। আবার কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনার পরও লার্ভা পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করতে হবে। চলতি মাস আগস্ট ও আগামী সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনকে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে মশক নিধন, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ৭০০ কোটিরও বেশি টাকা। এমনকি সাম্প্রতিক বাজেটগুলোতে মশক নিধনের জন্য শত শতকোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। শুধু ২০২৩ সালেই সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সরকারের ৪০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। 

ডিএসসিসির সূত্রে জানা গেছে যে, সংস্থাটির আওতাধীন ১০টি অঞ্চলের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ড। এখানে জনবল রয়েছে ১ হাজার ৫০ জন। এই মশক নিধনের ব্যববহার করা হয়, হাতে চালিত মেশিন ৫৭৫টি, ফগার মেশিন ৫২৫টি ও হুইলব্যারো মেশিন ৩৯টি। 

গড়ে প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইড ৩৪ দশমিক ৭৫ লিটার ও বিকালে অ্যাডাল্টিসাইড ৪৫ দশমিক ৭০ লিটার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি অঞ্চলে ১ জন পরিদর্শক, প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন মশককর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সকালে লার্ভিসাইডিংয়ে ৭ ও বিকালে অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য ৬ জন মশক কর্মী রয়েছেন।

সূত্র আরও বলছে, ডিএসসিসি এলাকায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার লক্ষ্যে বর্ষার আগেই জরিপ চালানো হয় গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 

ডাটা সংগ্রহের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করা হয়। জরিপ শেষে হাউস ইনডেক্স (এইআই), কন্টেইনার ইনডেক্স (সিআই), ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) এবং পিউপা ইনডেক্সের (পিআই) মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্দিষ্ট সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। 

এর মধ্যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী ২৭টি ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরিণত স্তর) পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়। 

এতে দেখা যায়, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মেঝেতে জমা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং বালতিতে জমা পানিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়। জরিপে প্রাপ্ত ফলের ভিত্তিতে গত ৭ জুন থেকে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করা হয়। পরের সপ্তাহে বাকি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসি মশা নিয়ন্ত্রণে স্বল্পসংখ্যক জনবল রয়েছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে লোকবলের স্বল্পতা একটি বড় বাধা। তাই শুধু ডিএনসিসির একার পক্ষে পুরোপুরি মশক নিধন করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতি হাজার বাসিন্দার জন্য ২ দশমিক ৩ জন কর্মীর প্রয়োজন। কিন্তু ডিএনসিসির রয়েছে প্রতি ১১ হাজারে একজন কর্মী, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তারপরেও এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রজননস্থল ধ্বংসের কৌশলকে। 

শহরের ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব, ড্রাম কিংবা জমে থাকা পানির পাত্র, এসবই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করে কোথায় কত বেশি লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহে ডিজিটাল পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। 

তথ্যভিত্তিক এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি। মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, অ্যাডাল্টিসাইডিং, চিরুনি অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার বিশেষ করে কল্যাণপুর, গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ এলাকা, ফার্মগেট, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজার, ওয়ারী, বাড্ডা, বাসাবো, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, শনির আখড়া, শ্যামপুর, উত্তরা, ভাটারা, খিলক্ষেত, পুরান ঢাকা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগসহ প্রায় পুরো ঢাকাবাসীই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। কিন্তু দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিতই ওষুধ ছিটানোর হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত ওষুধ ছিটান না।

অন্যদিকে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির এলাকার অলি-গলিতে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, নয়াপল্টন, পল্টন, সচিবালয় এলাকা, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৎসভবন, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। বিশেষ করে সচিবালয় এলাকাকেন্দ্রিক মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো বেশি হচ্ছে। 

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান, বনানী, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ এলাকায় ওষুধ ছিটানো হয়েছে। কিন্তু এসব এলাকার ভুক্তভোগীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মশার ওষুধ ছিটালেও মশার উপদ্রব কোনোভাবেই কমছে না বরং দিন দিন মশা বাড়ছেই। রাতে মশারি টানানো হলেও মশা ঢুকে পড়ছে। এখন দিন-রাত সমান কথা। তবে রাত যত বাড়ে মশার উপদ্রব ততই বৃদ্ধি পায়। ফেলে মশা নিয়ন্ত্রণে যে ওষুধ ছিটানো হয়, সেটি নিয়ে গবেষণা দরকার। 

মশার লার্ভা ধ্বংস করতে সকালে টেমিফস নামের একটি ওষুধ স্প্রে (ছিটানো) করা হয়, যা ভারত থেকে আমদানি করা। আর বিকালে উড়ন্ত মশা মারতে মেলাথিউন নামের ওষুধ দিয়ে ফগিং (ধোঁয়া ছড়ানো) করা হয়, যা চীন থেকে আনা। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তারেকুল ইসলাম লিমন বলেন, ডেঙ্গু এখন আর কোনো একক সংস্থার একক দায়িত্বের বিষয় নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আগে ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের রোগ মনে করা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সারা বছরই এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আসলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ঘাটতিই প্রধানত দায়ী। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ও সনাতন ভেক্টর কন্ট্রোল বা মশা নিধন পদ্ধতিতে মশা নিধনে যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার সঠিক নিয়ম বা প্রসিডিউর মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি এক বৈঠকে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সারা বছর কাজ করতে হবে। কিউলেক্স ও এডিস মশার জন্য আলাদা কর্মসূচি প্রয়োজন। কিন্তু সিটি করপোরেশন মৌসুমি কার্যক্রমের বাইরে কার্যকর উদ্যোগ নেয় না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, মশক নিধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে এডিস মশা বেড়ে যায়। আমরা ইতিমধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ করেছি। 

কারণ গত দুই বছর কোনো জরিপ হয়নি। কিছু এলাকা চিহ্নিত করেছি। যেখানে লার্ভার ঘনত্ব বেশি সেখানেই অভিযান চলবে। সমন্বিত উদ্যোগে মশক নিধন অভিযান চলমান রয়েছে। তবে নগরীর মশক নিধনে যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তা ১০০ ভাগ কার্যকর। তারপরেও নতুন কিছুু করার ক্ষেত্রে বায়োলজিক্যালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে কোথায় মশার উপদ্রব ও প্রজনন বেশি হচ্ছে। কেন উপদ্রব ও প্রজনন বেশি তা নিয়ে গবেষণা চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির মশক নিধনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল, নো মসকিউট’ শিরোনামে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। 

ড্রেনেজ, সুয়ারেজ, লেক ও খালগুলোতে পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। মশার ওষুধ ছিটানো কার্যক্রমও চলামন রয়েছে। অনেক এলাকায় খোলা নর্দমা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকার মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এতে মশার বংশবিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   ব্যর্থতা  বৃত্ত  সিটি করপোরেশন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: