আজ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস ও সপ্তাহ শুরু

বিবিধ

বিশ্বব্যাপী আজ শনিবার (১ আগস্ট) পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মায়ের

2026-08-01T12:44:17+00:00
2026-08-01T12:44:17+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
বিবিধ
আজ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস ও সপ্তাহ শুরু
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম 
আজ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী আজ শনিবার (১ আগস্ট) পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ তুলে ধরা এবং স্তন্যদান বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ বছর বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

১৯৯০ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে ইনোসেনটি গবেষণা কেন্দ্রের ঐতিহাসিক ঘোষণার সম্মান জানাতে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এই দিবসটি উদযাপন শুরু করে। পরবর্তীতে ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব স্তন্যদান সপ্তাহ হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। এ সময়ে মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতন করা এবং তাদের উৎসাহিত করতে একটি বড় পরিসরে বৈশ্বিক প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মায়ের দুধ নবজাতকের জন্য একমাত্র আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ খাবার। জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই শিশুর পুষ্টির একমাত্র উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।


 মাতৃদুগ্ধ পানের প্রধান উপকারিতাগুলো হলো
এটি শিশুর শরীরে সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনভাইরনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সের গবেষণা অনুযায়ী, মাতৃদুগ্ধ পান শিশু মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমায়।
মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও বুকের ইনফেকশন, কোষ্ঠকাঠিন্য, একজিমা এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
বড় বয়সে ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন) ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা মাতৃদুগ্ধ না পানকারী শিশুর তুলনায় বেশ কম হয়।
এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পরিপূর্ণভাবে ঘটাতে সাহায্য করে এবং বুদ্ধির সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করে।

মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পানের সুফল শুধু শিশুই নয়, মাতৃদুগ্ধ পানের মাধ্যমে মায়েরা নানা স্বাস্থ্যগত সুফল লাভ করেন।  
নিয়মিত স্তন্যদান মায়েদের স্তন ক্যানসার, জরায়ু ক্যানসার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ালে প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা হয়।
নিয়মিত স্তন্যদান প্রাকৃতিকভাবে পরবর্তী সন্তান ধারণে কিছুটা বিলম্ব ঘটায়, যা পরিবার পরিকল্পনা সহজ করতে ভূমিকা রাখে।
স্তন্যদান শিশুর সঙ্গে মায়ের এক গভীর মানসিক বন্ধন তৈরি করে, যা শিশুর মানসিক গঠনে অত্যন্ত সহায়ক।

এছাড়া মাতৃদুগ্ধের জন্য কোনো বাড়তি আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না এটি সর্বদা প্রস্তুত, আদর্শ তাপমাত্রায় ও জীবাণুমুক্ত থাকে। তাই মায়েদের স্তন্যদান বিষয়ে সচেতন করা এবং এর স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়াই এই সপ্তাহের মূল লক্ষ্য।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ  দিবস  সপ্তাহ শুরু  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: