ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো নামাজ। নামাজের প্রতিটি রুকনের নির্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো ‘কিয়াম’, অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা। তাই যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম, তার জন্য দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। অযথা বসে নামাজ পড়লে তা সহিহ হবে না।
এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সাহাবি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) অর্শরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চান, কীভাবে নামাজ আদায় করবেন। উত্তরে নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে। যদি দাঁড়াতে সক্ষম না হও, তাহলে বসে পড়বে। আর বসেও যদি সক্ষম না হও, তাহলে শুয়ে নামাজ আদায় করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ১১১৭)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বসে নামাজ পড়ার অনুমতি কেবল তখনই রয়েছে, যখন দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ অসুস্থতা, বার্ধক্য বা অন্য কোনো বাস্তব কারণে দাঁড়ানো অসম্ভব হলে শরিয়ত সহজতা দিয়েছে।
ফিকহের গ্রন্থগুলোতেও বলা হয়েছে, কেউ যদি দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়তে পারেন, কিন্তু রুকু বা সেজদা করতে কষ্ট হয়, তাহলে তিনি দাঁড়িয়ে কিয়াম সম্পন্ন করবেন। এরপর প্রয়োজন হলে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু ও সেজদা আদায় করতে পারবেন। এভাবেই তার নামাজ সম্পূর্ণ হবে।
ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা মানুষের সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় না। তাই সক্ষম ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন, আর অক্ষম ব্যক্তির জন্য শরিয়তে রয়েছে সহজ ও বাস্তবসম্মত বিধান। ফলে সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা এবং অসুস্থ হলে শরিয়তের দেওয়া ছাড় অনুযায়ী আমল করাই একজন মুসলিমের কর্তব্য।
সময়ের আলো/এসএকে