যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা, সঠিক তথ্য দেওয়া এবং সময়মতো আবেদন করলেই পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আই-২০ সংগ্রহ
স্টুডেন্ট ভিসার শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে। ভর্তি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে আই-২০ ফর্ম দেওয়া হয়। এটি এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যেখানে শিক্ষার্থীর প্রোগ্রাম, পড়াশোনার সময়কাল, খরচসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে।
ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণ
আই-২০ পাওয়ার পর অনলাইনে ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণ করতে হয়। এটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফর্ম।
এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। ফর্ম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ প্রিন্ট করে রাখতে হবে, যা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ
ডিএস-১৬০ জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ভিসা আবেদন ফি বা এমআরভি ফি পরিশোধ করতে হয়। ফি জমার রসিদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন হতে পারে।
সেভিস ফি প্রদান
আই-২০ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে সেভিস (Student and Exchange Visitor Information System) ফি দিতে হয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য সেভিস আই-৯০১ ফি সাধারণত ৩৫০ মার্কিন ডলার। পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর রসিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
ভিসার ছবি প্রস্তুত করা
ভিসা আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ছবি দিতে হয়। ছবি সাম্প্রতিক হতে হবে এবং নির্ধারিত আকার ও মান বজায় রাখতে হবে। ছবি তোলার সময় চশমা ব্যবহার না করাই নিয়মের অংশ।
ভিসা সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি
সাক্ষাৎকারের আগে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে:
পাসপোর্টআই-২০ ফর্মডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজসেভিস ফি রসিদভিসা ফি জমার প্রমাণপাসপোর্ট সাইজের ছবিশিক্ষাগত সনদ ও মার্কশিটব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণস্কলারশিপ বা ফান্ডিং সংক্রান্ত কাগজপত্রভিসা সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকারে সাধারণত শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম এবং অর্থায়নের বিষয় জানতে চাওয়া হয়।
এছাড়া পড়াশোনা শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই নিজের শিক্ষা পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ভিসা অনুমোদনের পর
ভিসা অনুমোদন হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রমণ ও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ সময় নিয়ে সম্পন্ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/এমকে