নতুন অর্থবছরে সুন্দর সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে রফতানি খাত। জুলাই মাসে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ

2026-08-04T02:11:23+00:00
2026-08-04T02:11:23+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
নতুন অর্থবছরে সুন্দর সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:১১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে রফতানি খাত। জুলাই মাসে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। জুন মাসের তুলনায় যা ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকেও এসেছে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। ফলে চলতি অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এ আশার মধ্যেও রয়েছে উদ্বেগ। 

শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের সতর্ক অবস্থান আগামী মাসগুলোর রফতানি প্রবৃদ্ধিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। গতকাল সোমবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জুলাই মাসে দেশের মোট পণ্য রফতানি আয় হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। জুন মাসে এ আয় ছিল ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

তবে গত বছরের একই মাসের তুলনায় রফতানি আয় শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রফতানি আয় ছিল ৪৭৭ কোটি ৯ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ধীরগতির কারণে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি এখনও নেতিবাচক রয়েছে।

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত জুলাই মাসে শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা জুন মাসের ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে।

তবে বছরওয়ারি হিসাবে পোশাক রফতানি ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। বৈশ্বিক ক্রেতাদের মজুদ সমন্বয় এবং কিছু বাজারে দুর্বল চাহিদাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

রফতানি গন্তব্যের তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাই মাসে দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৯১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পণ্য। জার্মানি ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার নিয়ে দ্বিতীয় এবং যুক্তরাজ্য ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বড় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ভারত ও সৌদি আরবে। জুলাই মাসে ভারতে রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রফতানিকারকদের মতে, বাজার বহুমুখীকরণের কৌশল ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করেছে।

বিশ্লেকষকরা বলছেন, জুন ও জুলাই টানা দুই মাসের শক্তিশালী মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি রফতানি খাতে নতুন গতি সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শরৎকাল ও বড়দিনকেন্দ্রিক কেনাকাটার মৌসুম শুরু হবে। এ সময় নতুন ক্রয়াদেশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি আরও বাড়তে পারে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শঙ্কা : 

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আমাদের আশাবাদী করেছে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আগস্ট মাসে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন ব্যাহত হলে রফতানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে যাবে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান রফতানি গন্তব্য দেশগুলোতেও অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপরও সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘ রফতানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে রফতানি আদেশের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ব্যয়বহুল এয়ার কার্গোর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং রফতানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’

তিনি সৌদি আরবসহ নতুন বাজারে রফতানি বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব বাজার বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।’

চলতি অর্থবছরে সরকার পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে পণ্য রফতানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাসের রফতানি আয় সেই লক্ষ্যপূরণের পথে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই গতি ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

বিজিএমইএর বিবৃতি : 

এদিকে বিজিএমইএর এক বিবৃতিতে গতকাল সোমবার বলা হয়, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসের পোশাক রফতানি তথ্য প্রকাশ করেছে।

তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যা গত বছর জুলাইয়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর স্বাক্ষরিতে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পোশাক রফতানি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ উচ্চ রফতানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রফতানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পোশাক শিল্প যখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি- যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা-সেই সময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু।


পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিট পোশাকের তুলনায় ওভেন পোশাক রফতানি বেশি কমেছে। ওভেন পোশাক রফতানি ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে নিট পোশাক রফতানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯০।

এখানে আরও উল্লেখ্য, জুলাই ২০২৬ মাসে বিজিএমইএ সম্পাদিত ইউডি পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে (জুলাই ২০২৫-এর তুলনায়), অর্থাৎ রফতানিতে চলমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা দূর করতে পারলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। বিজিএমইএ শিল্পের ইতিবাচক ধারা এবং প্রতিযোগী সক্ষমতা বজায় রাখতে সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   নতুন অর্থবছর  সূচনা  রফতানি খাত 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: