আর্দ্রতা, ছত্রাক ও দুর্গন্ধ থেকে সুরক্ষা

নিবেদিতা দাস

ফিচার

প্রকৃতির এক স্নিগ্ধ রূপ নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। এই মৌসুমে ঘরের ভেতরে আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে ভাব, ছত্রাক, দুর্গন্ধ, মশা-পোকামাকড় এবং আসবাবের

2026-08-04T04:47:53+00:00
2026-08-04T04:48:20+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
আর্দ্রতা, ছত্রাক ও দুর্গন্ধ থেকে সুরক্ষা
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৭ এএম  আপডেট: ০৪.০৮.২০২৬ ৪:৪৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
প্রকৃতির এক স্নিগ্ধ রূপ নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। এই মৌসুমে ঘরের ভেতরে আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে ভাব, ছত্রাক, দুর্গন্ধ, মশা-পোকামাকড় এবং আসবাবের ক্ষতি যেন নিত্যসঙ্গী। তাই একটু অসাবধানতা ঘরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট করে, তেমনি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্ষাই ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক যত্নে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণই বর্ষাকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বৃষ্টি না থাকলেও প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত। যেসব ঘরে সূর্যের আলো কম আসে, সেখানে এক্সহস্ট ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। মেঝে ভেজা থাকলে দ্রুত শুকিয়ে ফেলতে হবে, কারণ দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা থাকলে দেয়াল ও মেঝেতে ছত্রাক জন্মাতে পারে।

কাঠের আসবাব বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। আলমারি, টেবিল বা খাট দেয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে না রেখে সামান্য ফাঁক রাখলে বাতাস চলাচল সহজ হয়। নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কাঠের পালিশ ব্যবহার করলে আসবাব দীর্ঘদিন ভালো থাকে। সোফা, কার্পেট ও ম্যাট্রেসেও আর্দ্রতা জমে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তাই সুযোগ পেলেই রোদে দেওয়া বা ভালোভাবে বাতাস লাগানো প্রয়োজন।

পোশাক ও আলমারির যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষায় কাপড় পুরোপুরি না শুকিয়ে আলমারিতে রাখলে ফাঙ্গাস ও বাজে গন্ধ তৈরি হয়। কাপড় সম্পূর্ণ শুকিয়ে তবেই গুছিয়ে রাখতে হবে। আলমারিতে সিলিকা জেল, কর্পূর, নিমপাতা বা চারকোল ব্যাগ রাখা যেতে পারে, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।

রান্নাঘরে এই সময়ে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুকনো খাবার বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। সিঙ্ক ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে পানি জমে দুর্গন্ধ বা পোকামাকড়ের উপদ্রব না বাড়ে। ফলমূল ও শাকসবজি দীর্ঘদিন না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে ব্যবহার করাই ভালো।

বর্ষার সময় ছাদ, বারান্দা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। জানালা-দরজার ফাঁক দিয়ে পানি ঢুকছে কি না সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা এবং সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করলে টিভি, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিরাপদ থাকে।
যাদের ঘরে ইনডোর প্লান্ট আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। বর্ষায় অনেক সময় গাছে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। টবের পানি যেন জমে না থাকে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

আর্দ্রতার কারণে ঘরে অনেক সময় এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধ তৈরি হয়। এটি দূর করতে লেবুর খোসা, দারুচিনি, লবঙ্গ বা এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে প্রাকৃতিক সুগন্ধ ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত বিছানার চাদর, পর্দা ও কুশনের কভার ধুয়ে শুকনো রাখা জরুরি।

বর্ষাকালে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়ে যায়। ফুলের টব, বারান্দা বা ছাদে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার করলে অনেকটাই সুরক্ষা পাওয়া যায়।


ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ইসরাত জাহান বলেন, ‘বর্ষায় ঘর সুন্দর রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অনেকেই ঘর বন্ধ রাখেন, এতে আর্দ্রতা আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় জানালা খুলে রাখা এবং আসবাব দেয়াল থেকে সামান্য দূরে রাখলে ছত্রাকের ঝুঁকি অনেক কমে।’

ডা. আখতার উজ্জ জামান সজীব বলেন, ‘স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ফাঙ্গাস দ্রুত জন্মায়, যা অনেকের অ্যালার্জি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সুস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।’

বর্ষাকালে ঘরের যত্ন মানে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং পরিবারের সুস্থতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস যেমন ঘরে আলো-বাতাস ঢুকতে দেওয়া, পানি জমতে না দেওয়া, আসবাব ও কাপড় শুকনো রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুরো মৌসুমজুড়েই ঘরকে রাখবে নিরাপদ, আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   আর্দ্রতা  ছত্রাক  দুর্গন্ধ  সুরক্ষা 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: